শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খাগড়াছড়িতে সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত রাজস্থলীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত বান্দরবানে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী সমাবেশ করেছেন বান্দরবান জেলা বিএনপি দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক ক্লাস খাগড়াছড়িতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যক্রম অবহিতকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত বরকলে জোন কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হরিনা আমতলা একাদশ লংগদুতে সেতু থেকে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু বাঙ্গালহালিয়া ইউপি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বাবলু মিয়া পানছড়িতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত লামায় ৫০০-১ হাজার টাকায় শিক্ষকতা, দুর্গম পথ পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে অথোয়ই কক্সবাজারে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রাঙ্গুনিয়ায় ৮৩ লাখ টাকার অবৈধ সিগারেটসহ ডাম্পার জব্দ, আটক ২ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে সেবার মানোন্নয়নে স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সুপারিশ দীঘিনালায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে সেনাবাহিনীর মতবিনিময় সভা বাঘাইছড়িতে ২৭ বিজিবির বৃক্ষরোপণ ও মানবিক সহায়তা দীঘিনালায় আল হেরা ইসলামি একাডেমিতে কুরআনের সবক ও পুরস্কার বিতরণ

খাগড়াছড়িতে  অসহায় ও দরিদ্র ৭৩পরিবারের মাঝে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি বিতরণ

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে আত্মকর্মসংস্থান ও টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করতে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন সহায়তার আওতায় খাগড়াছড়িতে অসহায়, গরীব ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি বিতরণ করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগী পরিবারগুলোর হাতে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি তুলে দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মাহাবুব আলম।
এদিন জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকার অস্বচ্ছল ও দুঃস্থ ৮টি পরিবারের মাঝে গরু, ২৫টি পরিবারের মাঝে ছাগল এবং ৪০টি পরিবারের মাঝে হাঁস-মুরগি বিতরণ করা হয়। সবমিলিয়ে ৭৩টি পরিবার এই সহায়তার আওতায় আসে।
বিতরণকালে জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মাহাবুব আলম বলেন,“পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো আত্মকর্মসংস্থান। গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন এমন একটি উদ্যোগ, যা খুব অল্প পুঁজি দিয়েই একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে। আজ আমরা যে ৭৩টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি, তাদের জীবনমান বদলাতে এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন,“আমি মনে করি জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, এটা নৈতিক কর্তব্য। দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ, অসহায়দের ঘরবাড়ি নির্মাণ, ঘরের টিন প্রদান, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণসহ মানুষের যে কোনো সমস্যার কথা শুনলে আমি ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করি। মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে কাজ করলে যে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়, তা অন্য কোথাও নেই।”
উপকারভোগী মিলনপুর থেকে আসা এক নারী বলেন,
“আমার স্বামীর আয় খুবই সীমিত। এই গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পেয়ে আমরা এখন নিজের বাড়িতেই আয় করার সুযোগ পেলাম। জেলা পরিষদের এই সহায়তা আমাদের জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন আনবে।”
উত্তর সবুজবাগ থেকে আসা আরেক উপকারভোগী মো. রশিদুল বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে অভাবের সঙ্গে লড়াই করছি। আজ যে সহায়তা পেলাম, তা দিয়ে ছোট পরিসরে খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি। এতে আমার পরিবারের জীবনমান বদলাবে বলে বিশ্বাস করি।”
উপকারভোগীরা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকলে পার্বত্য অঞ্চলের অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলো আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে এবং সমাজের মূল স্রোতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *