
কক্সবাজার প্রতিনিধি।।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে বিজিবির মেডিক্যাল টিম প্রায় ৭০০ বন্যাদুর্গত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে চকরিয়া পৌরসভা, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন ও কাকারা ইউনিয়নে পৃথকভাবে আয়োজিত ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীও উপস্থিত ছিলেন।
বিতরণ করা ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আলু ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য। পাশাপাশি বিজিবির চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টিম বন্যাদুর্গতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ করেন। চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে শিশু, নারী, প্রবীণ এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যাই ছিল বেশি।
অনুষ্ঠানে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার, রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) ও রামু ব্যাটালিয়নের (৩০ বিজিবি) অধিনায়ক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি বিজিবি নিয়মিত মানবিক সহায়তা, উদ্ধার কার্যক্রম ও চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করছে। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও বাহিনীটি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, বন্যার কারণে সৃষ্ট খাদ্যসংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সময়ে এই সহায়তা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।