
খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে দুটি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার ৫৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ২৯৪ জন এবং নারী ভোটার ১১ হাজার ২৮১ জন। লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নে ভোটার ৯ হাজার ৭০৭ জন, দুল্যাতলী ইউনিয়নে ৬ হাজার ৬২৭ জন এবং বর্মাছড়ি ইউনিয়নে ৫ হাজার ৯৮৭ জন।
উপজেলায় মোট ১২টি ভোটকেন্দ্রে ৫২টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নে ৫টি, দুল্যাতলী ইউনিয়নে ৩টি এবং বর্মাছড়ি ইউনিয়নে ৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত দুটি কেন্দ্র হলো—লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নের শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বর্মাছড়ি ইউনিয়নের ফুত্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ জানান, দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এসব এলাকায় নিরাপদ ও সময়মতো নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছাতে বিশেষ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মীদের পায়ে হেঁটে যেতে হবে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ নেই। পাহাড়ি পথ, ঝিরি ও ঘন জঙ্গল পেরিয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়। এ কারণে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ভোটের পরিবেশ নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ বিজিবির নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে।