
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বড়ছনখোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে খালপাড়, সড়ক, সেতু ও ফসলি জমি—এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পাহাড় ও খাল থেকে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রভাবশালী একটি চক্র এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, বড়ছনখোলা বাজারসংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ে সেলু মেশিন বসিয়ে পানি ঢেলে পাহাড় ধসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে খালের দুই পাড়ের বসতবাড়ি, রাস্তা, সেতু ও ফসলি জমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে ওই এলাকার একটি সড়ক-সংলগ্ন ব্রিজ ধসে পড়েছে।
এছাড়া কুমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের চাককাটা, পেতাইন্নাছড়া, হারগাজা, কুরুকপাতা ঝিরি, সাপেরঘারা, বাইশারীছড়া, বগাইছড়ি, মালুম্যা ও কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন এলাকা থেকেও অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্বল আইন প্রয়োগের সুযোগে দিন দিন এ কার্যক্রম বাড়ছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেট প্রতিদিন বড়ছনখোলা এলাকা থেকে শতাধিক ট্রাক বালু বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। এতে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
অভিযোগের বিষয়ে এক বালু ব্যবসায়ী দাবি করেন, তিনি নিজের জায়গা থেকে বালু তুলছেন এবং এটি তার জীবিকার অংশ।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানান, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন–২০১০ অনুযায়ী পাম্প, ড্রেজার বা অন্য কোনো যন্ত্রের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেতু, সড়ক, আবাসিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অবৈধ উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লামা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রুবায়েত আহমেদ বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।