বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, ঔষধ ও ত্রাণ বিতরণ সেনাবাহিনী ১৬ বেঙ্গল’র উদ্যোগে দুর্গম এলাকায় শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা প্রদান খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১৩৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা, নতুন কর নেই খাগড়াছড়িতে ১৭৬ বন্যাকবলিত পরিবার পেল নগদ সহায়তা ও স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী সাজেকে নিহত শিক্ষিকার পরিবারকে পাশে থাকার আশ্বাস বিজিবির বান্দরবানে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু, দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণে গুরুত্বারোপ পানছড়িতে বন্যাদুর্গত ১৫০ পরিবার পেল ত্রাণ সহায়তা খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষা শিক্ষা ক্লাবের উদ্বোধন রাঙ্গুনিয়ায় অসহায় ও অসুস্থ রোগীদের আর্থিক সহায়তা দিল প্রবাসী কর্ণফুলী ক্রীড়া পরিষদ আগাম প্রস্তুতিতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমেছে, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের ঘোষণা পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর ছয় মাসে বদলে গেল মহাপুরম উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের চিত্র বান্দরবানে শতাধিক বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ উখিয়ায় বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি, ৪৭৭ জনের চিকিৎসাসেবা বিলাইছড়ির ফারুয়ায় বন্যাদুর্গত আরও ৬০০ পরিবারকে ত্রাণ দেবে আশিকা পানছড়ি বাজারে নিষিদ্ধ পিরানহা বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

শিক্ষা নয়, চলছে অবহেলা: মাংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ

Reporter Name

মো. লোকমান হাকিম, রুমা।।
বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলার গালেংগ্যা ইউনিয়নের মাংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি, অনিয়মিত পাঠদান ও নানা অবকাঠামোগত সংকটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, এসব কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তারা হলেন—এংলাই ম্রো (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক), তাপস চাকমা (সহকারী শিক্ষক), রিয়াজুল ইসলাম (সহকারী শিক্ষক-বদলি) এবং নুহ্লাপ্রু মারমা (পি.টি.আই)।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং পাঠদান কার্যক্রমও সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না। স্থানীয়দের ভাষ্য, কোনো কোনো শিক্ষক কয়েক মাসে মাত্র এক বা দুইবার বিদ্যালয়ে আসেন।

এক অভিভাবক বলেন, “স্কুলের অবস্থা খুবই খারাপ। ঠিকমতো ক্লাস হয় না। শিক্ষকরা মাসের পর মাস স্কুলে আসেন না। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”

আরেক অভিভাবক পাংপাও ম্রো অভিযোগ করে বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এংলাই ম্রো পাঁচ মাসে একবার এসেছেন। এসেও ক্লাস না করেই চলে গেছেন। অন্য শিক্ষকরাও নিয়মিত আসেন না।”

গত সোমবার (১১ মে) সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিবেদক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ তিনজন শিক্ষককে অনুপস্থিত দেখতে পান। কেবল সহকারী শিক্ষক তাপস চাকমাকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত পাওয়া যায়। এছাড়া জানা যায়, উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ে ৯ মে থেকে প্রথম সাময়িক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হলেও মাংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরু হয় দুই দিন পর।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক তাপস চাকমা বলেন, “যথাসময়ে প্রশ্নপত্র হাতে না পাওয়ার কারণে পরীক্ষা শুরু করতে পারিনি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমাকে পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই আমি একাই পরীক্ষা নিচ্ছি।”

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়েও তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ। সুপেয় পানির ব্যবস্থা, টয়লেট, অফিস কক্ষ, নোটিশ বোর্ড, আলমারি ও পর্যাপ্ত আসবাবপত্রের অভাব রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এংলাই ম্রোর বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অভিযোগ জানানো হলেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।

রুমা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ চিরাণ বলেন, “একজন অভিভাবক আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দুর্গম এলাকা হওয়ায় প্রকৌশলী ও ঠিকাদারেরা কাজ করতে আগ্রহ দেখাননি। ভবিষ্যতে টিনশেড ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *