মো. জয়নাল আবেদীন, আলীকদম প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডস্থ কলারঝিরি এলাকায় গভীর রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সেগুন গোল কাঠ জব্দ করেছে আলীকদম ব্যাটালিয়ন ৫৭ বিজিবি। তবে এ ঘটনায় বন বিভাগের তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। জব্দকৃত মালামালের সিজার মূল্যঃ সেগুন কাঠ= ১০১.১২ ঘনফুট যার বাজার মূল্য =৩,৫৩,০২০/-টাকা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে জোত পারমিটের বৈধ কাগজের আড়ালে অবৈধ কাঠ পাচার করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় তৈন কলারঝিরি থেকে গভীর রাতে সেগুন গোল কাঠ পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলীকদম ব্যাটালিয়ন ৫৭ বিজিবির একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে এসব কাঠ জব্দ করে। অভিযানের সময় বন বিভাগের স্থানীয় তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে সহায়তা ও তাৎক্ষণিক উপস্থিতি চাওয়া হলেও তিনি অসহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে বন বিভাগের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জব্দকৃত এসব কাঠ তৈন রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে দিয়ে পার্শ্ববর্তী লামা উপজেলার বিভিন্ন কাঠের ডিপোতে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেখানে পরে ভুয়া বা ভিন্ন জোতের বৈধ কাগজ লাগিয়ে এসব কাঠ বাজারে ছেড়ে দেওয়ার সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রাথমিক তথ্যমতে, এই কাঠ ব্যবসায় জড়িত এবং জব্দকৃত কাঠের মালিক ওমর ফারুক বেচু। তবে এ বিষয়ে তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাঠের মালিকানা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদী'দের দাবি, বন বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে আলীকদমের তৈন রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন রিজার্ভ ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান গাছ উজাড় হচ্ছে। বিজিবির মতো অন্যান্য আইন প্রয়োগ কারী সংস্থার পাশাপাশি বন বিভাগের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা ছাড়া এই নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়।
এবিষয়ে আলীকদম ব্যাটালিয়ন ৫৭ বিজিবির পক্ষ থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলছে এবং জব্দকৃত কাঠ বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর ও আইনি প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com