ঈদগাঁও প্রতিনিধি।।
দীর্ঘ ১১ বছরের আইনি জটিলতা কাটিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ খুলেছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৮ জুলাই একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
মহামান্য হাইকোর্টের গত ২ জুলাইয়ের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি এবং শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ২৫ জন সিনিয়র সহকারী শিক্ষক। পদোন্নতির যোগ্য হওয়ায় হাইকোর্টের রায় ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ পাচ্ছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৯টি। এর মধ্যে সাতটি বিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন প্রধান শিক্ষক, সাতটিতে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক এবং বাকি ২৫টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম আইনি জটিলতায় আটকে ছিল। হাইকোর্টের রায়ের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি ও শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঈদগাঁও উপজেলার জন্য ২০২৫ সালে নিয়োগ পাওয়া ২২ জন সহকারী শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব শিক্ষকের পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকরা জানান, ঈদগাঁও উপজেলায় দুটি ক্লাস্টার—ঈদগাঁও ও মাইজপাড়া। তবে এখনো উপজেলা পর্যায়ে কোনো হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে কর্মরত শিক্ষকরা প্রায় ৩৫ মাইল দূরে কক্সবাজার সদর উপজেলা থেকে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।
তাদের দাবি, ঈদগাঁও উপজেলার নিজস্ব কোডে স্থানীয়ভাবে বেতন-ভাতা উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হলে ভোগান্তি কমবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বলেও জানান তারা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও উপজেলায় একজন পূর্ণকালীন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে কার্যালয়ের অন্যান্য জনবল সংকট রয়েছে। বর্তমানে একজন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ভূঁইয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com