ঈদগাঁও প্রতিনিধি।।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের একটি কচুবাগান থেকে ডেক, পাতিল ও কড়াইসহ বিপুল পরিমাণ রান্নার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ইউনিয়নের সওদাগরপাড়া এলাকা থেকে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মালামালের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সওদাগরপাড়ার বাসিন্দা নাসির উদ্দিন নিজ বাড়ির পাশের কচুবাগান পরিষ্কার করার সময় বস্তাবন্দি অবস্থায় কিছু রান্নার সরঞ্জাম দেখতে পান। পরে তার স্ত্রী বিষয়টি এলাকার বাসিন্দা ও মাংস ব্যবসায়ী নুরুল হককে জানান। নুরুল হক বিষয়টি ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল হুদাকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে ইউপি সদস্য নুরুল হুদা ইউনিয়নের দফাদার মিজানুর রহমানকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তার উপস্থিতিতে বস্তা খুলে আটটি বড় পাতিল, দুটি ডেক এবং একটি বড় কড়াই উদ্ধার করা হয়। পরে সরঞ্জামগুলো দফাদার মিজানুর রহমানের জিম্মায় রাখা হয়।
উদ্ধারকারী নাসির উদ্দিন বলেন, মশা, মাছি, সাপ, ইঁদুরসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব কমাতে তিনি কচুবাগান পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় বস্তাবন্দি অবস্থায় রান্নার সরঞ্জামগুলো দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়।
এদিকে ঈদগাঁও বাজারের প্রধান সড়কে অবস্থিত ‘মেসার্স হাজী বিরিয়ানি’ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ছিদ্দিক আহমদ দাবি করেন, ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি সংলগ্ন নুর কলোনিতে তার ভাড়া বাসা থেকে নয়টি পাতিল, দুটি ডেক, একটি বড় কড়াই, একটি হাতা, দুটি বটি এবং একটি ব্লেন্ডার চুরি হয়েছিল। গত পবিত্র ঈদুল আজহার সময় তিনি নিজ জেলা বরিশালে অবস্থানকালে এ চুরির ঘটনা ঘটে। পরে ঈদগাঁওয়ে ফিরে তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এখনো ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি।
জালালাবাদ থেকে রান্নার সরঞ্জাম উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে ছিদ্দিক আহমদ বলেন, বিষয়টি শুনেছেন, তবে এখনো ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলো দেখেননি। সেগুলো তার চুরি যাওয়া মালামাল কি না, সেটিও নিশ্চিত নন।
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পুলিশ পাঠানোর কথা জানান।
পরে খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অন্তূ বড়ুয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ চলছে।
তবে উদ্ধার হওয়া রান্নার সরঞ্জামগুলোর প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com