দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি।।
দীপেন দেওয়ান বলেছেন, শহর এলাকার পাশাপাশি দূর্গম ও পশ্চাৎপদ এলাকার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে কোনো জনগোষ্ঠী উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে এবং স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে রাঙ্গামাটি জেলা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীপেন দেওয়ান এমপি। এ সময় আরও বক্তব্য দেন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব এবং সিভিল সার্জন ডা. নুয়েন খীসা।
বিভিন্ন দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীরা তাদের চলমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে সভায় বিস্তারিত তুলে ধরেন। এলজিইডি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তারা উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, জেলার কয়েকটি উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতিনিধি জানান, রাঙ্গামাটি শহরের পানি সরবরাহ উন্নয়নে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সাজেক অঞ্চলের পানি সমস্যার সমাধানে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সভায় সরকারি কলেজের শিক্ষকরা ক্যাম্পাসের মধ্য দিয়ে রাস্তা থাকায় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দুর্গম এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যা কৃষি খাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে বলে মত দেওয়া হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কর্মকর্তারা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বন বিভাগের জমি ব্যবহারের আগে সমন্বয় করার আহ্বান জানান।
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, দুর্গম এলাকার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট ও অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।
সভায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে ডরমিটরি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সিভিল সার্জন জানান, দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com