ঈদগাঁও প্রতিনিধি
কক্সবাজার জেলার নবৃষ্ট ঈদগাঁও উপজেলা একনেকে অনুমোদনের পাঁচ বছরেও স্থাপন করা হয়নি উপজেলা ভূমি অফিস। সহকারি কমিশনার (ভূমি) নিয়োগের প্রজ্ঞাপন থাকলেও গত দুই বছর যাবত অজ্ঞাত কারণে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না সহকারি কমিশনার। এতে করে প্রত্যন্ত এলাকার সর্বসাধারণ সকল ধরনের তাৎক্ষণিক ভূমি সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। চরম ব্যাঘাত ঘটছে জনগণের ভূমি সেবা সহজিকরণ কার্যক্রমে।
জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সংস্থা 'জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি' (একনেক) ০১/০৯/২১ খ্রিস্টাব্দে কক্সবাজার জেলার 'ঈদগাঁও' কে নতুন উপজেলা হিসেবে অনুমোদন দেয়। এটি জেলার নবম উপজেলা। বর্তমানে ভাড়া অফিসে উপজেলার আওতাধীন বেশ কয়েকটি দপ্তরের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে। ঈদগাহ জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর পূর্বপাশে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হলেও এখনো পর্যন্ত সহকারি কমিশনার (ভূমি) নিয়োগ ও উপজেলা ভূমি অফিস স্থাপিত হয়নি। তাই উপজেলার আওতাধীন ৫টি ইউনিয়নের জনগণকে ৩৫ কিলোমিটার দূরবর্তী কক্সবাজার জেলা শহরে অবস্থিত 'সদর উপজেলা ভূমি অফিসে' গিয়ে ভূমি সেবা গ্রহণ করতে হয়। এতে প্রত্যন্ত এলাকার সেবা প্রার্থীদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। ভিন্ন উপজেলায় গিয়ে ভূমি সেবা গ্রহণ করতে স্থানীয় জনগণের ব্যাপক সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে। সময় এবং অর্থ বের করে কষ্ট করে সেখানে গেলেও অনেক সময় কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। সময়মত ভূমি সেবা না পাওয়ায় নানান জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। যথাসময়ে সেবা না পাওয়ায় তাদেরকে বারবার দূরবর্তী এ উপজেলা সদরে গিয়ে প্রচুর বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
অন্যদিকে সদর উপজেলা ভূমি অফিস এবং সহকারি কমিশনার (ভূমি) সহ তৎসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রায় সময় সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকেন। যেমন- আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের উচ্ছেদ কার্যক্রম, ভূমি অধিগ্রহণ সহ অন্যান্য কাজে বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকতে হয় উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। তাছাড়া সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঈদগাঁও উপজেলার চলতি দায়িত্বে থাকায় তার উপর কাজের চাপও আরো বেড়ে গেছে।
জানা গেছে, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেন। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়ায় সার্বিক কার্যক্রমে ধীর গতি বিরাজ করছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এসিল্যান্ড পদায়নের ছাড়পত্র না দেয়ায় ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অসহায়, প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিয়ত কষ্ট পেতে হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে তার স্থায়ী সমাধানের দাবি উঠছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, নামজারি ও মিচ মামলার অনুমোদন, বিজ্ঞ আদালতের তদন্ত, প্রতিবেদনের অগ্রবর্তী ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের অনুমোদন সংক্রান্ত সেবা কার্যক্রম থেকে তারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বাউন্ডারি ও খতিয়ান ভুক্ত সরকার নামীয় ৮৬ শতক জমি রয়েছে। যেখানে উপজেলা ভূমি অফিস করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে।
ঈদগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল জব্বার জানান, ঈদগাঁও উপজেলায় সহকারি কমিশনার (ভূমি) নিয়োগ না হওয়ায় জনগণের ভূমি সেবা সহজিকরণের ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটছে। দ্রুত কাজ নিষ্পত্তি করতে সমস্যা হচ্ছে। বালি উত্তোলন,
পাহাড় কাটা, মাটিকাটা, ব্রাম্যমান আদালত পরিচালনা সহ নানা অপরাধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও উদ্ভূত সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। এক কথায় জনগণ প্রশাসনিক তাৎক্ষণিক সেবার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com