সৈয়দ এম এ বাসার, পানছড়ি প্রতিনিধি।।
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী খানা তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় পানছড়ি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা নাসরিন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দ্বিপায়ন চাকমা।
প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও পানছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উচিত মনি চাকমা এবং পানছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এম এ বাসারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। গত ১০ মার্চ পাইলটিং কার্যক্রম উদ্বোধনের পর আট বিভাগের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলা ও ৫৭টি সিটি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৭১ হাজার ৮৩১ জনকে কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা প্রদানের জন্য নির্ধারিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে ৮৬০ বা তার কম স্কোর পাওয়া নারীপ্রধান পরিবারগুলো ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবে। তবে সব নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার থেকে দেশব্যাপী খানা তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কাজে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগের কথা জানানো হয়। তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ট্যাবলেটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করবেন। ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারীপ্রধান পরিবারকে কার্ড ও ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে সব যোগ্য নারীকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি টাকাপের সঙ্গে সংযুক্তির পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পিওএস ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও ফারহানা নাসরিন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। দেশব্যাপী খানা জরিপ সফল করতে তিনি পানছড়ির নাগরিকদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদেরও এ কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রেস কনফারেন্সে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com