সৈয়দ এম এ বাসার , পানছড়ি প্রতিনিধি:
প্রকৃতির বুক চিরে পাহাড় কাটা, মাটি ফেলে খাল ভরাট, এমনকি সরকারি রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে। পাহাড়, খাল ও জনসাধারণের চলাচলের পথ ঘিরে এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে মো. কাজল মিয়াকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি স্কেভেটর জব্দ করা হয়েছে।
১০ অক্টোবর (শনিবার) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর উল্টাছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগর এলাকার আলীনগর রাস্তার মুখে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা নাসরিন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে পাহাড় কাটার অভিযোগে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬খ ও ১৫(১) ধারার বিধান অনুযায়ী অভিযুক্তকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত স্কেভেটরটি জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ওই এলাকায় স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার কাজ চলে। পাহাড়ের মাটি দিয়ে পাশের একটি খাল ভরাট করা হয়। একই সঙ্গে সরকারি রাস্তার শেষ অংশ কেটে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
পাহাড় শুধু মাটির স্তূপ নয়, এটি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর খাল শুধু পানি প্রবাহের পথ নয়, বর্ষায় অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনেরও অন্যতম মাধ্যম। এসব প্রাকৃতিক ও সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। খাল ভরাট ও পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার খবর পেয়ে পানছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাহাড় কাটার কাজ বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মৌখিকভাবে নিষেধ করে। এরপরও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলে শনিবার উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালায়। অভিযানে জরিমানা ও স্কেভেটর জব্দের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পাহাড় কাটা ও খাল ভরাটের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে সরকারি রাস্তা রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত অভিযান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রকৃতির ক্ষতি হলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবনেই ফিরে আসে। তাই পানছড়ির পাহাড়, খাল ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com