দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি।।
যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব মধু পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে দিনটি উপলক্ষে ধর্মীয় নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দায়ক-দায়িকা ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন।
মধু পূর্ণিমা উপলক্ষে বিভিন্ন বিহারে ভিক্ষুসংঘকে মধু, ফলমূল, মধু মিশ্রিত পায়েসসহ নানা ধরনের খাদ্যসামগ্রী দান করেন ভক্তরা। পাশাপাশি সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, ধর্মীয় সভা, প্রার্থনা, বুদ্ধ-কীর্তন ও প্রদীপ প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।
রাঙ্গামাটি শহরের বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারে মধু পূর্ণিমা উপলক্ষে ধর্মদেশনা দেন বিহারাধ্যক্ষ করুণাপাল থের। এতে বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার সভাপতি সুকুমার বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক সনত কান্তি বড়ুয়াসহ দায়ক-দায়িকা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও দিনটি উপলক্ষে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস ও কাহিনি অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ বর্ষাকালীন অবস্থানে পারিলেয়্য বনে অবস্থানকালে একটি হাতি তাঁকে নিয়মিত ফলমূল দান করত। পরে একটি বানর বুদ্ধকে মধু দান করে। প্রথমবার মধুচাকে ছানা ও ডিম থাকায় বুদ্ধ তা গ্রহণ না করলেও পরে পরিষ্কার করে দেওয়া মধু গ্রহণ করেন। পারিলেয়্য বনে হাতির সেবা ও বানরের মধু দানের এই ঘটনাকে স্মরণ করে ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা মধু পূর্ণিমা পালন করে থাকেন।
ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হওয়ায় এ দিনটি ‘ভাদ্র পূর্ণিমা’ নামেও পরিচিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com