মোহাম্মদ শাহেদ হোসেন রানা, রামগড় প্রতিনিধি।।
পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক ত্রাণ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেওয়া চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ হওয়া এক মেট্রিক টন চালের পরিবর্তে সংশ্লিষ্টদের ৭ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম এ করিম।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে চাল বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। এ কর্মসূচির আওতায় রামগড় উপজেলা, রামগড় পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সময়ে সরকারি-বেসরকারি এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং, অনাথ আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সামাজিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের জন্যও পৃথকভাবে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, রামগড় উপজেলার ২৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন এক মেট্রিক টন করে মোট ২৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দপত্র ইস্যুর পর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও খাদ্যগুদামের মাধ্যমে চাল উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা।
অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দপ্রাপ্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের চালের পরিবর্তে ৭ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে ২০ হাজার টাকা দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রামগড় পৌরসভার তালিমুল কুরআন নূরানী মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, "আমাদের মাদ্রাসার নামে এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু একজন শিক্ষককে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডেকে ৯ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।"
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বালুখালী বাহারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি ওসমান গণি, বলিটিলা তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক এবং সোনাইআগা কালীমন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ধনঞ্জয় ত্রিপুরা। তাদের দাবি, বরাদ্দকৃত চালের পরিবর্তে নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে।
তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম এ করিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "যার নামে বরাদ্দপত্র ইস্যু করা হয়, তিনি ছাড়া অন্য কারও পক্ষে খাদ্যগুদাম থেকে চাল বা গম উত্তোলন করা সম্ভব নয়।"
রামগড় খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, "বরাদ্দপত্রে যার নাম থাকে, কেবল তিনিই নির্ধারিত পরিমাণ চাল বা গম খাদ্যগুদাম থেকে গ্রহণ করতে পারেন।"
এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম বলেন, "বিষয়টি নিয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com