মেহেরাজ হোসেন সুজন, নানিয়ারচর
পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী ও কিশোরীদের প্রতি জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, মানব পাচার, বাল্যবিবাহ এবং মাসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ ও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাঙামাটির কল্যাণপুরে উদ্যোগ রিসোর্স সেন্টারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের ক্ষমতায়ন প্রকল্পের আয়োজনে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচারণা ও গণমাধ্যমের ভূমিকা বিষয়ক এক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা ও প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুশোভন চাকমা। প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাকেশ চাকমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাডভোকেট উষাময় খীসা ও হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশন রাঙামাটির সভাপতি শান্তি বিজয় চাকমা। এছাড়া রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য রাঙাবি তঞ্চঙ্গ্যা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থাপিত গবেষণায় বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নারী ও কিশোরীরা যৌন ও মানসিক নির্যাতন, প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি, অর্থনৈতিক নির্যাতন, জাতিগত বিদ্বেষ এবং উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো নানা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। সামাজিক কুসংস্কার, দারিদ্র্য, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, আইনি সচেতনতার অভাব ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা এসব প্রতিরোধে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে পরিচালিত গবেষণায় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পাঁচটি উপজেলা এবং পাঁচটি জাতিগোষ্ঠীর মোট ২৬৩ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
সভায় সহিংসতা প্রতিরোধে ভুক্তভোগীদের স্বাস্থ্যসেবা, আইনি ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, প্রথাগত বিচারব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় নেতৃত্ব ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শুধু আইনগত পদক্ষেপ নয়, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমেই এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ সম্ভব।
সভায় নারী সম্পদ নেটওয়ার্ক, বিভিন্ন নাগরিক ও কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় কারবারিসহ মোট ২৫ জন অংশগ্রহণ করেন।