আইন, পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জীবন যেন প্রভাবশালীদের ক্ষমতার বুটের নিচে পিষ্ট হচ্ছে। পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় আজিজনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মো. আজম উল্লাহ খানের মালিকানাধীন একটি অবৈধ ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত এসবিএম নামের ইটভাটাটি শুধু পরিবেশ ধ্বংসই নয়, বরং পুরো এলাকাকে সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত করেছে। ইটভাটাটি পাহারা দিতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করে। কেউ ছবি তুলতে বা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ভয়ভীতি, হুমকি এমনকি প্রাণনাশের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অবৈধ এই কর্মকাণ্ডে আজম উল্লাহ খানের ভাই কালাম ও পুত্র ফরহাদ হোসেন সক্রিয়ভাবে জড়িত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর ধরে নির্বিঘ্নে ইটভাটাটি চালিয়ে আসছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মো. আজম উল্লাহ খান আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ওই সময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গজালিয়া এলাকার দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলে এসবিএম নামের ইটভাটাটি গড়ে তোলা হয়। এরপর থেকেই স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ভাটাটি পরিচালিত হচ্ছে।
গজালিয়া-আজিজনগর সড়কের পাশে পাহাড় কেটে ও বনের হাজার হাজার ফুট কাঠ পুড়িয়ে অবাধে ইট উৎপাদন চলছে। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাহাড়ি বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য- এমনটাই চিত্র সরেজমিনে দেখা গেছে এই প্রতিবেদক।
গ্রামবাসীরা জানান, মেজাং মেম্বার পাড়া, নাজিরাম ত্রিপুরা ও রাসুঙ্গ ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দারা ইটভাটার শ্রমিকদের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে আছেন। বিশেষ করে পাহাড়ি নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একা বাইরে বের হলে নারীরা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সংবাদকর্মী জানান, ইটভাটায় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে মালিকের ছেলে ফরহাদ, ম্যানেজার কবিরসহ শ্রমিকরা তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায়। এমনকি “কয়েকজনকে চুল্লিতে পুড়িয়ে ফেললেও কিছু হবে না”—এমন হুমকিও দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ আজম খান ইটভাটাটির কোনো বৈধ অনুমোদন নেই বলে স্বীকার করলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার দায় শ্রমিকদের ওপর চাপান।
বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, গজালিয়া ইউনিয়নে মো. আজম উল্লাহ খানের এসবিএম ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে লজিস্টিক সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন জানান, ওই ইটভাটায় আগে অভিযান চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। আবার চালু হয়েছে শুনেছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতা পেলে যেকোনো সময় পুনরায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com