মো. ইসমাইলুল করিম, প্রতিনিধি:
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামায় বন বিভাগের আওতাধীন ডলুছড়ি রেঞ্জাধীন বন রক্ষা বাহিনীর অব্যাহত অভিযান। এই অভিযানে ট্রানজিট রোল বা কাঠ পরিবহন আইন সম্পর্কে জ্ঞাত হচ্ছে অনেকেই। বৃক্ষ যিঁনি রোপন পরিচর্চা করবেন, এর সুফলও তিঁনি ভোগ করবেন। এটা যেমন সত্য ও স্বত্ত্ব; তেমনি এতদবিষয়ে কিছু নীতিমালাও রয়েছে,যা মেনে চলাও দরকার। অর্থাৎ ট্রানজিট রোল যাকে সংক্ষেপে 'টিপি' বলা হয়। অনেকে মনে করেন, নিজের সৃজিত ভূমির গাছ নিজে কেটে বাজারজাত করা হলে বন বিভাগ বা অন্য কোনো প্রশাসন অন্যয্য হস্তক্ষেপ করছেন। এমনটা বুজা গেলো গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় লামা বন বিভাগ ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এস.এম হাবিবুল্লাহ নেতৃত্বে একটি টিম'সহ নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে টহল প্রদান কালে ডলুছড়ি রেঞ্জাধীন ফাইতং মৌজার বানিয়ারছড়া টু গজালিয়া সংযোগ সড়কের বদরের টিলা নামক এলাকা হতে জ্বালানি কাঠ বোঝাই একটি ডাম্পার গাড়ি যার নং-চট্ট মেট্রো-য় ৭০৩ রাস্তায় হতে আটক ও জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জ্বালানী কাঠ ও গাড়ি স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় লামা রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসে। লাগাতার অভিযানের অংশ হিসেবে ডলুছড়ি রেঞ্জ অফিসার এস.এম. হাবিবুল্লাহ নেতৃত্বে একটি টিম দিনে বিশেষ টহল বাহিনী নিয়ে বদরের টিলা এলাকা হতে ডাম্পারগাড়ীসহ জ্বাজানী কাঠ জব্দ করেন।ট্রানজিট রোল কাঠ পরিবহন আইন অমান্য করে অবৈধ পরিবহনকালে এসব কাঠ ও গাড়িজব্দ করা হয়। জব্দকৃত জ্বালানি কাঠের পরিমান আনুমানিক দুইশত ঘনফুট বলে ধারণা করা হচ্ছে। জব্দকৃত বনজদ্রব্য গাড়ীসহ লামা ডলুছড়ি রেঞ্জ অফিস আনা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, এই বিষয়ে বন আইনে মামলা হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন থেকে বোঝা যায়, বন বিভাগ শুধু সংরক্ষিত বন রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন। আসলেই শুধু তা কিন্তু নয়। সরকারি সংরক্ষিত বন রক্ষা, বাগান সৃজন, বন ও পরিবেশ জীব বৈচিত্র্য রক্ষায়, বন উন্নয়ন ব্যবস্থপনায় বন বিভাগ একটি সরকারি নীতিমালা অনুস্মরণ ও পালনের চেষ্টা করছেন এবং করতে বাধ্য। ব্যক্তি মালিকানা জোতের পরিপূর্ণ একটি গাছ কর্তন, বাজারজাতে বন বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু সরকারের বিধিবদ্ধকরণ আইনের প্রতি খামখেয়ালি মেজাজে কেউ নিজের গাছও কেটে পরিবহন বাজারজাত করতে পারবেন না। এটা বন বিভাগের করা আইন নয়, রাষ্ট্রের আইন। সুতরাং আমাদের সৃজিত যত্নে করা গাছ বাগান আমরা কাটবো, বিক্রি করে আর্থিক সমস্য সমাধান করবো এটা আমাদের যেমন অধিকার, তেমনি আইন মানাও আমাদের নাগরিক দায়িত্ব বলে জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com