
নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি::
আজ ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ১১:০০ টায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অর্থায়নে ও গণসাক্ষরতা অভিযানের কারিগরি সহযোগিতায় জাবারাং কল্যাণ সমিতি বাস্তবায়িত “শিশু সুরক্ষা” প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়িতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের কুমারধন রোয়াজা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৪৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব নিখিল মৃধা।
বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুশবু রোয়াজা ও তাঁর সহকর্মীবৃন্দ, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, অভিভাবকবৃন্দ, জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বিনোদন ত্রিপুরা, প্রোগ্রাম অফিসার বিদ্যুৎ জ্যোতি চাকমাসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুশবু রোয়াজা, জনপ্রতিনিধি শ্যামল কান্তি ত্রিপুরা, বেনুকা ত্রিপুরা এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বিনোদন ত্রিপুরা। বক্তারা বলেন, শীতের পোশাক ও স্কুল ব্যাগ পেয়ে শিশুরা অত্যন্ত আনন্দিত ও উৎসাহিত হয়েছে। এই আনন্দ ও উৎসাহ ধরে রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। নিয়মিত স্কুলে উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ এবং গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল মৃধা বলেন, “প্রত্যেক শিশুকে নিজের সন্তান মনে করে যত্ন নিলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “শিশুদের একবিংশ শতাব্দির উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”
উল্লেখ্য, “শিশু সুরক্ষা” প্রকল্পটি ০১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ও ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের মোট ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ভর্তিকৃত মোট ৯৯১ জন প্রাথমিক শিক্ষার্থী ও ৩২২জন মাধ্যমিক বালিকা শিক্ষার্থী প্রত্যেককে স্কুল ব্যাগ ও শীতের সোয়েটার বিতরণ করা হয়েছে।
জাবারাং কল্যাণ সমিতি বিশ্বাস করে, এ ধরনের উদ্যোগ প্রান্তিক এলাকার শিশুদের শিক্ষায় উৎসাহিত করবে এবং একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।