পাহাড়ের বহুভাষিক ও বহুজাতিক সমাজে শিল্প-সাহিত্যের চর্চা জোরদার করার প্রত্যয় নিয়ে খাগড়াছড়িতে উদযাপিত হয়েছে আরণ্যক বাচিকশিল্প চর্চাকেন্দ্রের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। ‘মনের ভাষা, জনের ভাষা’ প্রতিপাদ্যে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জেলা শহরের মিলনপুরস্থ হোটেল গাইরিংয়ে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, আবৃত্তি পরিবেশনা, কবিদের কণ্ঠে কবিতা পাঠ, কথামালা ও গুণীজন সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে আমন্ত্রিত কবি-সাহিত্যিকদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকপ্রাপ্ত কবি, লেখক ও ভাষা গবেষক এবং সংগঠনের উপদেষ্টা মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের পরিচালক (প্রচার ও যোগাযোগ) তপু ত্রিপুরা। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ও কবি চিংলামং চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্যে চিংলামং চৌধুরী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপটে ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং পরিচয়ের বাহক। বাচিকশিল্প চর্চা ভাষা সংরক্ষণ, শুদ্ধ উচ্চারণ অনুশীলন এবং সাহিত্যবোধ জাগ্রত করার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। তিনি জানান, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে দীর্ঘমেয়াদি আবৃত্তি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এবং বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ-এর চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি ও সাহিত্যজন হাফিজ রশিদ খান। অতিথি কথক হিসেবে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম রাইটার্স ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কবি অংসুই মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জের সভাপতি ও বাচিকশিল্পী ফারুক তাহের।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়া সাহিত্যিকদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম থেকেও আরও গুণীজন তৈরি হওয়া প্রয়োজন। তিনি শিল্প-সাহিত্য চর্চার বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, শিল্প-সাহিত্য থেকে দূরে সরে গেলে সমাজের ইতিবাচক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তিনি তরুণ প্রজন্মকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয় বিশিষ্ট সাহিত্যজন শান্তিলাল দেওয়ান, আর্য্যমিত্র চাকমা ও হাফিজ রশিদ খানের হাতে। আয়োজকরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে শুদ্ধ উচ্চারণ, সাহিত্যচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যেই সংগঠনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com