বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কেএম নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীদের দাবি, বিভিন্ন প্রকল্পের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রায় ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়া হচ্ছে। কমিশন না দিলে বিল আটকে রেখে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৫ু২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো টিআর প্রকল্পের আওতায় আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের কয়েকটি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ইউপি নারী সদস্যের নাম ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে প্রকল্পের কাজ নিজেই তদারকি ও বাস্তবায়ন করছেন পিআইও।
সরেজমিনে নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেরিনচর পাড়া সোনে স্কুল সংলগ্ন সড়ক মেরামত প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে ইউপি নারী সদস্য সারথী রানী ত্রিপুরার নাম উল্লেখ থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে অন্যদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রকল্প বোর্ডে দেওয়া মোবাইল নম্বরটিও সঠিক নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে বুজিরমুখ পাড়া যাওয়ার সড়কে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও। অভিযোগ রয়েছে, দুটি প্রকল্পেই একই ইউপি নারী সদস্যকে সভাপতি দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই দুটি প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ছিল প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
নয়াপাড়া ও কুরুকপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাংপু ম্রো ও কফিল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রায় ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়া হয়। কমিশন না দিলে বিল ছাড়ে বিলম্ব করা হয়। তাদের দাবি, আগে এই হার প্রায় ২৫ শতাংশ ছিল।
এদিকে বান্দরবানের এক ঠিকাদার শামীম হোসেন অভিযোগ করেন, আলীকদম উপজেলায় একটি প্যাকেজের আওতায় দুটি সেতু নির্মাণের কাজ পান তিনি। প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার ওই প্রকল্পের বিপরীতে বিভিন্ন খরচের কথা বলে প্রায় ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলীকদম উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কেএম নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আগে অনেক অভিযোগ এসেছে। এসব বিষয়ে যা খুশি লিখতে পারেন।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুর আলম বলেন, “পিআইওর বিরুদ্ধে কমিশন নেওয়ার বিষয়ে আমার কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে নাম থাকা ইউপি নারী সদস্য সারথী রানী ত্রিপুরা বলেন, “প্রকল্পের সভাপতি আমাকে করা হয়েছিল। তবে কাজটি পিআইও নিজেই করেছেন। কাজ শেষ হওয়ার পর সব টাকা তাকে দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com