পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবারের সার্বিক জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব হবে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ভাবনায় ব্যক্তি নয়, পরিবারকেই উন্নয়নের মূল একক হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দারিদ্র্য নিরসন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রতীকীভাবে পাঁচটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।
মন্ত্রী বলেন, বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলার ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ মোট ১২টি জাতিগোষ্ঠীর অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের জন্য নিয়মিত আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার আবদুর রহমান, লামা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মিলটন মুহুরী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জাবেদ রেজা এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র আমির হোসেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের সময় ১৩৮টি পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় সেগুলো তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৭টি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক পরিবারের সদস্যরা সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন। কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে বলে জানানো হয়। এতে নারীর আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা মিলবে।
এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে দুপুরে লামা উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য দেন পার্বত্যমন্ত্রী। এতে বান্দরবান, লামা, আলীকদমসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com