
হাবীবুল্লাহ মিসবাহ, রাজস্থলী (রাঙামাটি)
পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝিরি আর খালের স্বচ্ছ জলে ভাসছে হাজারো রঙের ফুল। স্নিগ্ধতা আর নতুন দিনের প্রত্যাশা নিয়ে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, ,বিষু, বিহু ও সাংলান।
রবিবার (১৩ এপ্রিল) উৎসবের প্রথম দিনে রাজস্থলী উপজেলার বিভিন্ন পাড়া ও গ্রামে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা মেতে উঠেছে তাদের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘ফুল বিষু’র আনন্দে।
এদিন ভোরে সূর্যোদয়ের আগেই তঞ্চঙ্গ্যা কিশোর-কিশোরীরা বাগান থেকে নানা পদের ফুল সংগ্রহ করে কাপ্তাই খাল, হ্নাড়া খালসহ পাহাড়ের বিভিন্ন ছোট-বড় ঝিড়িতে ফুল দিয়ে পূজা নিবেদন করে।
তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী, পুরাতন বছরের সব গ্লানি আর দুঃখ মুছে ফেলতেই এই ফুল নিবেদনের উৎসব পালন করা হয়। একইসঙ্গে এই ফুলের মাধ্যমে তারা গঙ্গা দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করে এবং প্রকৃতিকে ধন্যবাদ জানায়। উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ তুঙ্গে। পাড়ায় পাড়ায় চলছে ঘরদোর সাজানো এবং অতিথিদের আপ্যায়নের প্রস্তুতি। তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তরুণ তরুণীরা মেতে উঠবে তাদের ঐতিহ্যবাহী ঘিলাখেলায়। এছাড়াও ঘরে ঘরে থাকবে নানান পিঠা, পায়েস আর বিভিন্ন প্রকার সবজির মিশ্রনে পাচন তৈরির আয়োজন ও পরিবেশন।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠরা জানান, এই উৎসব কেবল আনন্দের নয় বরং তাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি বড় মাধ্যম। ফুল বিষুর পর কাল পালন করা হবে ‘মূল বিষু’ যেখানে ঘরে ঘরে ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন থাকবে। এছাড়াও নববর্ষে সুখ, শান্তি ও বিশ্ব শান্তি কামনায় বিহারে বিহারে চলবে পবিত্র ধর্মসভা এবং বিশেষ প্রার্থনা।
তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় ছাড়াও এখানে বসবাসরত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, খিয়াংসহ সকল সম্প্রদায়ের জনপদগুলো এখন বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে।