দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙামাটি।।
গ্রীষ্ম মৌসুমে রাঙামাটির বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে লিচুর কেনাবেচা। জেলা সদর বনরুপা সমতা ঘাট বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন জমে উঠেছে মৌসুমি এই ফলের বেচাকেনা। এ বছর রাঙামাটিতে লিচুর ভালো ফলন হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি।
জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় গাছে গাছে থোকায় থোকায় টকটকে লাল-সবুজ লিচু শোভা পাচ্ছে। পরিপক্ব হওয়ায় বিক্রির জন্য পাতাসহ লিচু নামানো হচ্ছে গাছ থেকে। কীটনাশকমুক্ত পরিবেশে উৎপাদিত হওয়ায় পাহাড়ি লিচুর চাহিদা দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিদিন দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন বাজারে লিচু নিয়ে আসছেন কৃষকরা। লিচুর আকার, রং ও জাতভেদে নির্ধারণ করা হচ্ছে দাম। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দর-কষাকষির পর ঘাটে লিচু নামানো হচ্ছে। পরে শ্রমিকরা তা প্যাকেটজাত করছেন। স্বল্প দূরত্বে অটোরিকশায় এবং দূরপাল্লায় ট্রাক, পিকআপ ও পরিবহন এজেন্সির মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে এ ফল।
লিচু চাষি বাবুধন চাকমা বলেন, “এবার আমার বাগানে ভালো ফলন হয়েছে। বাজারেও ভালো দাম পাচ্ছি। এতে আমি সন্তুষ্ট।” তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি ১০০ লিচু ২৫০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি, চায়না-টু ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু পাওয়া যাচ্ছে।
মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, “গরমের কারণে বাজারে লিচুর চাহিদা রয়েছে। তবে বর্তমানে পরিবহন ব্যয় অনেক বেশি। কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করার পর বিভিন্ন জেলায় পাঠাতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের লাভ কমে যাচ্ছে।”
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, “উৎপাদন ধরে রাখতে উন্নত ও দেশি জাতের লিচু চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। ফলন ভালো রাখতে এবং নিরাপদ ফল উৎপাদনে কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহার না করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, এ বছর রাঙামাটি জেলায় ১ হাজার ৯০৮ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩২০ কোটি টাকা। তবে গত বছরের তুলনায় ফলন কিছুটা কম হতে পারে বলেও জানান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com