সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি।।
রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের এগুজ্যাছড়ি গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে উপড়ে পড়া সেগুন গাছের আঘাতে রুবেল তঞ্চঙ্গ্যা নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে জ্ঞান ফেরার পর তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
আহত রুবেল তঞ্চঙ্গ্যা তাংখুলা তঞ্চঙ্গ্যা ও তাপসী তঞ্চঙ্গ্যার ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে এলাকায় তীব্র কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে বাড়ির পাশের একটি বড় সেগুন গাছ উপড়ে তাদের টিনের ছাউনি দেওয়া মাচাং ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের চাল ভেঙে পড়ে যায়।
এ সময় ঘরের ভেতরে খাটে অবস্থান করছিলেন রুবেল। গাছটি পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও গাছের ডালপালা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে রুবেল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ আছেন। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে আরও কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হবে।
রুবেলের মা তাপসী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, তাদের বাড়ির আশপাশে বেশ কয়েকটি পুরোনো ও বড় সেগুন গাছ রয়েছে। ঝড় বা ভারী বৃষ্টির সময় এসব গাছ উপড়ে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তিনি জানান, তার স্বামী মারা যাওয়ার পর পরিবারটিকে সেখানে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে পাশাপাশি পাঁচটি পরিবার সেখানে বসবাস করছে এবং সবাই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো অপসারণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এদিকে দুর্গম এলাকা হওয়ায় ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা ও আলীখ্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা রোকুনুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দ্রুত অপসারণ না করলে যেকোনো সময় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com