মোঃ শহীদুল ইসলাম, মানিকছড়ি।।
খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলা সদরের মুসলিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশ দিয়ে বাটনাতলি রাস্তার সঙ্গে সংযুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা, দখল ও জলাবদ্ধতার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, কয়েকশত পরিবারের দৈনন্দিন যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া এবং স্থানীয়দের হাট-বাজার, মসজিদ, মন্দির ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সড়কটির পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রায় ছয় ফুট প্রশস্ত একটি ড্রেন থাকলেও বিভিন্ন সময় কিছু ব্যক্তি ঘরবাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণ করে ড্রেনের জায়গা দখল করে নিয়েছেন। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সড়কের মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মসজিদের উত্তর পাশে সড়কের প্রবেশমুখে মরহুম আব্দুল জলিল (কাঠব্যবসায়ী) নামে এক ব্যক্তির দোকান নির্মাণের কারণে রাস্তার একটি অংশ দখল হয়ে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী পার্টিশন স্থাপন করে সড়কের জায়গা দখল করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই সড়কটির উন্নয়ন ও সীমানা নির্ধারণে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কিছু প্রভাবশালী মহলের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবর্তন আসে। অভিযোগ রয়েছে, একাধিকবার ঠিকাদাররা সড়ক পরিমাপ করলেও শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের বরাদ্দ পরিবর্তন করে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি শংকর মঠ মিশন মন্দির গেট পর্যন্ত না করে প্রায় চারশত গজ দূরে মন্দির পর্যন্ত ইটসলিং করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মতে মূল পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে কি না—তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সড়কটির দ্রুত সংস্কার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং ড্রেন পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে এই এলাকার কয়েকশত পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী এবং বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুহাম্মদ সাজু মিয়া, চৌধুরী বোডিং, আদালত সড়ক, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি।
মোবাইল: 01737443344, 01557273434, ই-মেইল: newsalokitopahar@gmail.com
www.alokitopahar.com