
খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি।।
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ছানি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোন। এ উদ্যোগের আওতায় চট্টগ্রামের একটি বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালে ৭৬ জন রোগীর সফল ছানি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মার্চ মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু ও সাধারণ চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ১ হাজার ২৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক ছিলেন চক্ষুরোগী।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে ১২৭ জনকে ছানি অপারেশনের জন্য প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এছাড়া ১০০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চশমা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে গত ১২ মে আরও ৬০ জন রোগীর মাঝে বিনামূল্যে চশমা বিতরণ করা হয়।
মহালছড়ি জোনের রেজিমেন্টাল মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ক্যাপ্টেন মো. বোরহান উদ্দিন বায়েজিদ জানান, গত ৬ জুন জোনের ব্যবস্থাপনায় মোট ১০৬ সদস্যের একটি দল চট্টগ্রামের লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের উদ্দেশে যাত্রা করে। তাদের মধ্যে ৮৪ জন ছিলেন ছানি রোগী এবং ২২ জন ছিলেন সহকারী স্বজন বা অ্যাটেনডেন্ট। রোগীদের মধ্যে ৪৫ জন নারী ও ৩৯ জন পুরুষ ছিলেন।
রোগীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে মহালছড়ি শিশুমঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনটি বাসে করে চট্টগ্রামে নেওয়া হয়। যাত্রাপথে রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য খাবার ও হালকা নাস্তার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সমন্বয়ের দায়িত্বে সাত সদস্যের একটি সেনা দল নিয়োজিত ছিল।
চট্টগ্রাম লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৮৪ জনের মধ্যে ৭৬ জনকে অপারেশনের জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসাগত কারণে বাকি রোগীদের পরবর্তীতে অপারেশনের জন্য নতুন তারিখ দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে নির্বাচিত ৭৬ জন রোগীর ছানি অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশন-পরবর্তী সময়ে রোগীদের চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করে। সঙ্গে থাকা অ্যাটেনডেন্টদের খাবারের দায়িত্ব গ্রহণ করে মহালছড়ি জোন।
চিকিৎসা কার্যক্রম শেষে গত ৮ জুন রোগী ও তাদের স্বজনদের নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
মহালছড়ি জোন সূত্রে জানানো হয়, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।