
খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ রক্ষা এবং সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে তরুণরা। যুব নেতৃত্বে পরিচালিত জলবায়ু সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্লাস্টিকমুক্ত এলাকা গঠন এবং বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের মধ্য দিয়ে নতুন বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে খাগড়াছড়ির দুর্গম এলাকায়।
গতকাল সোমবার খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার ক্যয়াংঘাট ইউনিয়নের প্রত্যন্ত উল্টাছড়ি বিহারপাড়ায় কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স থ্রু লোকালি লেড ইনক্লুসিভ অ্যাডাপটেশন (CoRLIA)-এর আয়োজনে এবং ইকোসিস্টেমস রেস্টোরেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন সিএইচটি (ERRD-CHT) প্রকল্পের আওতায় ইউএনডিপি (UNDP)-এর সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন এলাকার ১৩টি সাইট থেকে ৩৯ জন যুব প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, জলবায়ু বিষয়ক সচেতনতামূলক নাটক, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ গড়তে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাঁশের তৈরি ঝুড়ি ও ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়।
বিশ্ব যখন জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী যুবরা পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা নবলেশ্বর দেওয়ান (লায়ন) এবং ইউএনডিপির উপজেলা ফ্যাসিলিটেটিং অ্যাসোসিয়েট রনিল ত্রিপুরা। প্রশিক্ষক ও রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কৃষিবিদ অটল চাকমা। তিনি অংশগ্রহণকারীদের বৃক্ষরোপণ, পরিবেশবান্ধব জীবনধারা এবং জলবায়ু সহনশীল সম্প্রদায় গঠনের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
আয়োজকরা জানান, এই ৩৯ জন যুব প্রতিনিধি নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে প্লাস্টিকমুক্ত, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নারীর প্রতি সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করবেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং পরিচ্ছন্নতা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করবেন। তাদের নেতৃত্বে প্রতিটি গ্রামকে ধীরে ধীরে ‘মডেল ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনে। তাই স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে এবং যুবদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ ধরনের কার্যক্রম শুধু পরিবেশ সংরক্ষণেই নয়, বরং সচেতন, দায়িত্বশীল ও টেকসই সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রত্যন্ত উল্টাছড়ি বিহারপাড়ার এই আয়োজন যেন একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—পরিবেশ রক্ষার লড়াই শুধু সরকারের নয়, বরং সচেতন তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠতে পারে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ।