
পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯০০ সালের শাসনবিধি বাতিল, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদে নির্বাচন আয়োজনসহ সাত দফা দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) রবিবার (১ মার্চ ২০২৬) স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
সকাল ১০টায় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংগঠনের নেতারা স্মারকলিপি জমা দেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান, জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য নাছির উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে জবাবদিহিতার ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ বাড়ছে। তিনি দাবি করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
সংগঠনটি ভাইস চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টির প্রস্তাবসহ চেয়ারম্যান পদে বাঙালি জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে চায়। এছাড়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তারা দাবি করেন, পাহাড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের তৎপরতায় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সহিংসতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ১০৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই এসব আইন ও চুক্তি বাতিল করে সমতলের জেলার মতো সংবিধানের আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভূমি কমিশন আইন সংশোধন, সকল সম্প্রদায়ের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা, বাজারফান্ড এলাকায় হাউজ লোন চালু রাখা এবং শিক্ষা, চাকরি ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন বলে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন।