
পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক পাহাড়িদের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক)–কে ঘিরে অভ্যন্তরীণ বিরোধ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দল বিলুপ্তির দাবি সংবলিত একটি বিবৃতি ছড়িয়ে পড়লেও তা নাকচ করেছে সংগঠনটির বর্তমান নেতৃত্ব।
শনিবার সকালে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার মধুপুর বাজারে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি চাকমা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বিবৃতি প্রচার করা হয়েছে, যেখানে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ধরনের ঘোষণা দলীয় গঠনতন্ত্র বহির্ভূত এবং কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সম্মতি ছাড়া সম্পূর্ণ অবান্তর বলে দাবি করেন তিনি।
অমল কান্তি চাকমার অভিযোগ, দলের সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা (তরু) ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিটন চাকমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা দলীয় পদ হারানোর আশঙ্কায় অনুগত কিছু সদস্য নিয়ে খাগড়াছড়ি ত্যাগ করেছেন বলে দাবি করা হয়। তিনি আরও বলেন, বিশ্বস্ত সূত্রে তারা জানতে পেরেছেন—তারা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্থাপন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছাড়া ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) কেন্দ্রীয় কমিটির বাকি সদস্যরা বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থান করছেন এবং দলীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে।
এ সময় জানানো হয়, সংগঠনের সহসভাপতি সমীরণ চাকমা (চারমিং) আপাতত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে জানতে সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক অমর জ্যোতি চাকমা, কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপন চাকমা এবং কেন্দ্রীয় সদস্য সবিনয় চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রসীত খিসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ থেকে বের হয়ে তপনজ্যোতি চাকমার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) গঠিত হয়। ২০১৮ সালে তপনজ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজন গুলিতে নিহত হন। এরপর থেকে শ্যামল কান্তি চাকমা সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।