মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গুইমারায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও তরুণদের পাশে সেনাবাহিনী, গৃহ নির্মাণে ঢেউটিন ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ গুইমারায় সেনাসম্প্রীতি: সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ বাঘাইছড়িতে রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন বিলাইছড়িতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা লংগদুতে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ, শাহ আলমের প্রতিবাদ দুই দিন ধরে অচল সেতু, ঝুঁকি নিয়ে চলছে মোটরসাইকেল-মাহিন্দ্রা দীঘিনালায় ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার বান্দরবানের থানচি দুর্গম এলাকায় অসুস্থ পর্যটককে উদ্ধার করল বিজিবি যামিনী পাড়ায় দারুল হেদায়াহ মাদ্রাসার যাত্রা শুরু লংগদুতে সেনাবাহিনীর কারিগরি প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ধাপ শুরু বান্দরবানে জনস্বাস্থ্য প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন, সন্তোষ প্রকাশ দুদকের রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিলাইছড়ি জাসাস নেতাদের সাক্ষাৎ অনিয়মের অভিযোগে বান্দরবানে দুদকের অভিযান খাগড়াছড়িতে জিপিএ-৫ পাওয়া ১০৭ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা মাটিরাঙ্গায় তরুণদের মাসব্যাপী ফুটবল প্রশিক্ষণ সম্পন্ন বান্দরবানের রুমায় পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের গণসংবর্ধনা

বসন্তে রঙনের রঙে রঙিন মাটিরাঙ্গা

মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি।।

আজ বসন্ত এবং একই সাথে ভালবাসা দিবস। বসন্তের এই বার্তায় প্রকৃতি যখন নতুন রূপে সেজে ওঠে, ঠিক তখনই রঙিন পাপড়িতে চোখ জুড়ায় রঙন ফুল। মাটিরাঙ্গা উপজেলার মাষ্টার পাড়ায় রাস্তাঘেঁষা জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির আঙিনায় ফুটে থাকা রঙন ফুল যেন পথচারীদের জন্য এক টুকরো প্রশান্তি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শীতের শেষভাগ থেকে বসন্তকাল পর্যন্ত রঙন ফুল তার পূর্ণ সৌন্দর্যে ধরা দেয়। ছোট ছোট গুচ্ছবদ্ধ লাল-কমলা রঙের ফুলগুলো দূর থেকেই দৃষ্টি কাড়ে। প্রতিদিন সকাল-বিকেলে ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারীরা একবার হলেও থেমে তাকান ফুলের দিকে।

পথচারী আব্দুল কাদের বলেন, “প্রতিদিন সকালে ফজরের সালাত আদায় করে আমি নির্মল বাতাসে হাটি প্রতিদিন আর ফুলটি দেখি। বিকেলে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এই রঙন ফুলগুলোর দিকে একবার না তাকালে যেন দিনটাই অসম্পূর্ণ মনে হয়। ব্যস্ততার মাঝে এই কয়েক মুহূর্তের দেখাই মনটা হালকা করে দেয়। লাল-কমলা রঙের গুচ্ছ গুচ্ছ ফুলগুলো দেখলে মনে হয় বসন্ত যেন এখানেই তার সমস্ত সৌন্দর্য মেলে ধরেছে। ধুলোবালি আর কোলাহলের মধ্যেও এই ফুলগুলো এক টুকরো প্রশান্তি এনে দেয়। সত্যি বলতে, এমন সৌন্দর্য চোখে পড়লে দিনের ক্লান্তিটাও অনেকটাই দূর হয়ে যায়।”

আরেক পথচারী জসিম উদ্দিন জানান, “আমাদের এলাকায় এমন রঙিন ফুল সত্যিই খুব একটা দেখা যায় না। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি, কিন্তু জাহাঙ্গীর সাহেবের বাড়ির সামনে এলেই চোখটা নিজে থেকেই থেমে যায়। লাল-কমলা রঙের ছোট ছোট ফুলগুলো এত সুন্দরভাবে গুচ্ছ বেঁধে ফুটে আছে যে মনে হয় প্রকৃতি নিজেই যেন হাসছে। ব্যস্ত দিনের মাঝেও এই ফুলগুলো দেখলে মনটা এক অন্যরকম প্রশান্তিতে ভরে যায়। মনে হয়, সামান্য যতœ আর ভালোবাসা থাকলেই চারপাশটা কতটা সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।”

বাড়ির মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,“আমি ছোটবেলা থেকেই ফুলগাছ লাগাতে ভালোবাসি। রঙন গাছটি অনেক যতœ করে লালন করেছি। শীতের শেষ দিকে যখন কুঁড়ি আসে, তখন থেকেই অপেক্ষায় থাকি কবে পুরোপুরি ফুটবে। এখন ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে গাছটি এটা দেখে খুবই আনন্দ লাগে। পথচারীরা দাঁড়িয়ে দেখে, কেউ কেউ ছবি তোলে, অনেকে প্রশংসা করেন এসবই আমার জন্য বড় পাওয়া। আমি মনে করি, প্রত্যেক বাড়ির আঙিনায় যদি অন্তত একটি করে ফুলগাছ থাকে, তাহলে আমাদের এলাকা আরও বেশি সুন্দর ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।”

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সেলিম রানা বলেন, “রঙন একটি জনপ্রিয় শোভাবর্ধনকারী ফুলগাছ, যা আমাদের আবহাওয়ায় খুব ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। শীতের শেষভাগ থেকে বসন্তকাল পর্যন্ত এ ফুল বেশি ফোটে এবং সঠিক পরিচর্যা করলে প্রায় সারা বছরই ফুল পাওয়া সম্ভব। বাড়ির আঙিনায় বা রাস্তার পাশে রঙনসহ বিভিন্ন ফুলগাছ রোপণ করলে পরিবেশের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখে।

আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বাসাবাড়িতে ফলদ ও বনজ গাছের পাশাপাশি শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগাতে উৎসাহ দিয়ে থাকি। সামান্য যতœযেমন নিয়মিত সেচ, আগাছা পরিষ্কার এবং জৈব সার প্রয়োগ করলেই রঙন গাছ সুস্থ ও সবল থাকে। সবাই যদি নিজ নিজ বাড়ির আঙিনায় কিছু ফুলগাছ লাগান, তাহলে পুরো উপজেলাই আরও সবুজ ও নান্দনিক হয়ে উঠবে।”

প্রসঙত, বাড়ির আঙিনায় ফুল-গাছ রোপণ করলে শুধু পরিবেশই সুন্দর হয় না, মানুষের মনেও প্রশান্তি আসে। বসন্তের এই সময়ে রঙন ফুল যেন মাটিরাঙ্গার মাষ্টার পাড়ায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *