
গুইমারা প্রতিনিধি।।
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত সিন্দুকছড়ি মুখ ত্রিপুরা পাড়ায় মায়ের সুস্থতা, দীর্ঘায়ু কামনা এবং প্রয়াত স্বজনদের স্মরণে এক মহতী বৌদ্ধ পূণ্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৬ জুন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, হাজার প্রদীপ দানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও পূণ্যকর্ম সম্পাদন করা হয়। আয়োজক ভেন. ঞানিসারা ভিক্ষু (তমেন্ট ত্রিপুরা) বর্তমানে থাইল্যান্ডে অবস্থানরত একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু। তিনি গুইমারার সিন্দুকছড়ি মুখ ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দা। স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুৎ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ সুবিধাবিহীন এই প্রান্তিক জনপদের প্রথম স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট) হিসেবে তিনি এলাকায় শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজকের মা রেমুতি ত্রিপুরার সুস্থতা ও নীরোগ জীবন কামনার পাশাপাশি প্রয়াত আত্মীয়-স্বজনদের উদ্দেশ্যে পূণ্যদান করা হয়। আমন্ত্রিত ভিক্ষুসংঘের উপস্থিতিতে বিনয়ানুসারে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এতে প্রয়াত কিরাত ত্রিপুরা, বিরেন্দ্র ত্রিপুরা, গোওয়ালীনী ত্রিপুরা এবং সম্প্রতি প্রয়াত লিলিকা ত্রিপুরাসহ পরিবারের মৃত সদস্যদের স্মরণ করে পূণ্যরাশি উৎসর্গ করা হয়।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানের আগে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত এবং পারিবারিক নানা পরিস্থিতির কারণে আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। ভোর থেকে গ্রামবাসী, যুবক-যুবতী, উপাসক-উপাসিকারা প্রস্তুতিমূলক কাজে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে ভদন্ত উপসেন মহাথের ও ভদন্ত ইন্দাকা ভিক্ষুর পরামর্শ ও সহযোগিতার কথা আয়োজক বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। এছাড়া খাগড়াছড়ি থেকে আগত আটুমা মারমাসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক, বাবুর্চি, যুবসমাজ ও এলাকার বাসিন্দারা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ পূণ্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আয়োজক।