শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লামায় পাঁচ ইটভাটার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়া বান্দরবানের লামাতে ২৪ বছর শিকলে বাঁধা হাতি ‘বাহাদুর’, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন মানিকছড়ির ধর্মঘরে তিনটি দোকান পুড়ে ছাই প্রায় ক্ষয়ক্ষতির ৭০ লক্ষাধিক কাপ্তাইয়ের চিৎমরম মুসলিম পাড়ায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ লামায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাঃ উইলিয়াম লুসাই মেমোরিয়াল হল উদ্বোধন মহিষখালী নিখোঁজ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ছাত্র জিফাত হাসানের সন্ধান চায় বাবা-মা পাহাড়ে সুপেয় পানি সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যোগে হাসি ফুটেছে পাড়ায় পাড়ায় চ্যাম্পিয়নস লিগে কাপ্তাইয়ের জয় একটি ডিও লেটারের অভাবে আটকে আছে আলীকদম চৌকি আদালত গোমতিতে বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির পরিচিতি সভা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার আহ্বান রাজস্থলীতে ঝুলন্ত সেতু, ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক সংঘ ও বাজার পরিদর্শন দুদকের মামলায় কারাগারে বান্দরবানের পিআইও, সাময়িক বরখাস্ত খাগড়াছড়িতে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‌্যালী ও আলোচনা বাঘাইছড়িতে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত পাকুয়াখালী গণহত্যা দিবস: ৩০ বছর পরও বিচারের দাবিতে স্বজনদের কর্মসূচি

প্রত্যন্ত সিন্দুকছড়ি থেকে বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের উড়ান: পিএইচডি অর্জন করলেন ড. সজীব ত্রিপুরা

Reporter Name

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, স্টাফ রিপোর্টার।।
খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে কঠোর সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সজীব ত্রিপুরা। তাঁর এই অর্জনকে ঘিরে পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন ও গর্বের অনুভূতি।

ড. সজীব ত্রিপুরা নিজের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, তাঁর জীবনের তিনটি বড় স্বপ্ন ছিল—ইঞ্জিনিয়ার হওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া এবং সর্বশেষ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন। দীর্ঘ প্রতিকূলতা, সীমাহীন সংগ্রাম এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তিনি প্রতিটি লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হন।

প্রথম স্বপ্ন পূরণ হয় ২০১০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার মাধ্যমে। দ্বিতীয় স্বপ্ন পূরণ হয় ২০১৬ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে তৃতীয় ও শেষ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন।

নিজের শৈশব স্মৃতিচারণে তিনি তুলে ধরেন এক কঠিন বাস্তবতার চিত্র—অবকাঠামোবিহীন বিদ্যালয়, কাদামাটির পথ, বর্ষাকালে হাঁটুসমান কর্দমাক্ত রাস্তা, সীমিত খাদ্যসংস্থান এবং শিক্ষা উপকরণের অভাবের মধ্যেও তার শিক্ষা জীবন এগিয়ে যায়। তবুও শিক্ষক মংমং মারমার মতো নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের হাত ধরে তিনি ইংরেজি শিক্ষায় দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলেন।

বিদেশে পিএইচডি গবেষণার সময় তিনি ভাষাগত বাধা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, একাকীত্ব এবং তীব্র গবেষণা চাপের মধ্যেও নিয়মিত মিটিং, প্রেজেন্টেশন ও একাডেমিক লক্ষ্য পূরণ করে যেতে বাধ্য হন। একাধিকবার গবেষণাপত্র রিজেক্ট হওয়ার পরও তিনি থেমে যাননি।

ড. সজীব ত্রিপুরা তাঁর সাফল্যের পেছনে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, সহকর্মী ও বন্ধুদের অবদানকে বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি তাঁর এই অর্জন সকল সহযোগী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন।

তার এই সাফল্যকে পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে—যেখানে সীমাবদ্ধতা নয়, ইচ্ছাশক্তিই নির্ধারণ করে সাফল্যের পথ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *