শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজস্থলীতে জাঁকজমকপূর্ণ বিজ্ঞান মেলা ও আইডিয়া শোকেসিং অনুষ্ঠিত পাহাড়ের প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষি, শিল্প ও পর্যটনের সমন্বয়ে বদলে যেতে পারে লামার অর্থনীতির চিত্র বান্দরবানে কোল্ড স্টোরেজ; দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে পাহাড়ের কৃষকদের খাগড়াছড়িতে উদ্যোক্তা উদ্যোগ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত রাজস্থলীতে কারিতাসের ব্যতিক্রমধর্মী স্বাস্থ্যকর রন্ধন প্রণালী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে  মাটিরাঙ্গায় স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন খেদাছড়া উচ্চ বিদ্যালয় মহালছড়ির উল্টাছড়ি বিহারপাড়ায় কমিউনিটি অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত বিলাইছড়িতে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পানছড়িতে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত লক্ষীছড়িতে মারমা ঐক্য পরিষদের উপজেলা সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত রাঙামাটির রাজস্থলীতে নওমুসলিম তরুণী উদ্ধার, বাবাুমা আটক রুমায় শান্তি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পুনর্বাসন ইস্যুতে সেনাবাহিনীর মতবিনিময় সভা কাপ্তাইয়ে খামারিদের মাঝে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপকরণ বিতরণ কাউখালীতে ৯৯ লিটার চোলাই মদসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মহালছড়িতে ১১২ কৃষকের মাঝে কাজুবাদাম ও কফি চাষের চারা-উপকরণ বিতরণ বান্দরবানে নির্মাণাধীন প্রথম আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনা

প্রত্যন্ত সিন্দুকছড়ি থেকে বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের উড়ান: পিএইচডি অর্জন করলেন ড. সজীব ত্রিপুরা

Reporter Name

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, স্টাফ রিপোর্টার।।
খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে কঠোর সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সজীব ত্রিপুরা। তাঁর এই অর্জনকে ঘিরে পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন ও গর্বের অনুভূতি।

ড. সজীব ত্রিপুরা নিজের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, তাঁর জীবনের তিনটি বড় স্বপ্ন ছিল—ইঞ্জিনিয়ার হওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া এবং সর্বশেষ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন। দীর্ঘ প্রতিকূলতা, সীমাহীন সংগ্রাম এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তিনি প্রতিটি লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হন।

প্রথম স্বপ্ন পূরণ হয় ২০১০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার মাধ্যমে। দ্বিতীয় স্বপ্ন পূরণ হয় ২০১৬ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে তৃতীয় ও শেষ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন।

নিজের শৈশব স্মৃতিচারণে তিনি তুলে ধরেন এক কঠিন বাস্তবতার চিত্র—অবকাঠামোবিহীন বিদ্যালয়, কাদামাটির পথ, বর্ষাকালে হাঁটুসমান কর্দমাক্ত রাস্তা, সীমিত খাদ্যসংস্থান এবং শিক্ষা উপকরণের অভাবের মধ্যেও তার শিক্ষা জীবন এগিয়ে যায়। তবুও শিক্ষক মংমং মারমার মতো নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের হাত ধরে তিনি ইংরেজি শিক্ষায় দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলেন।

বিদেশে পিএইচডি গবেষণার সময় তিনি ভাষাগত বাধা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, একাকীত্ব এবং তীব্র গবেষণা চাপের মধ্যেও নিয়মিত মিটিং, প্রেজেন্টেশন ও একাডেমিক লক্ষ্য পূরণ করে যেতে বাধ্য হন। একাধিকবার গবেষণাপত্র রিজেক্ট হওয়ার পরও তিনি থেমে যাননি।

ড. সজীব ত্রিপুরা তাঁর সাফল্যের পেছনে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, সহকর্মী ও বন্ধুদের অবদানকে বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি তাঁর এই অর্জন সকল সহযোগী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন।

তার এই সাফল্যকে পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে—যেখানে সীমাবদ্ধতা নয়, ইচ্ছাশক্তিই নির্ধারণ করে সাফল্যের পথ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *