
ঋতুরাজ বসন্তের আগমন আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস—এই দ্বৈত উৎসবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা শহরের ফুলের দোকানগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। বাহারি ফুলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা। পাহাড়ের বুক চিরে এখন সুবাস ছড়াচ্ছে লাল গোলাপ, রজনীগন্ধা আর গাঁদা। ব্যবসায়ীদের আশা, আজ দিনশেষে লাখ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হবে এই পাহাড়ি জনপদে।
সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, উন্নয়ন বোর্ড নার্সারি, নিউমার্কেট এলাকার ‘মায়ের দোয়া নার্সারি’, রিজার্ভ বাজারের ‘পৌর নার্সারি এন্ড টব হাউজ’, আসামবস্তি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা এবং পলওয়েল পার্কের মতো বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এখন তারুণ্যের জয়জয়কার। প্রতিটি দোকানেই থরে থরে সাজানো লাল গোলাপ। বসন্তের হলুদ আর ভালোবাসার লালে একাকার হয়ে গেছে পুরো শহর।
ব্যবসায়ী মোজাফর জানান, “ভালোবাসা দিবসে লাল গোলাপের কোনো বিকল্প নেই। গভীর অনুভূতির প্রতীক হিসেবে তরুণ-তরুণীদের প্রধান পছন্দ এটিই।” চাহিদার কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই বাগান থেকে ফুল বুকিং করে রেখেছেন তারা। মানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি ফুল ২০ টাকা থেকে শুরু করে আস্ত তোড়া হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আসামবস্তি ব্রিজের পাশে ফুল নিয়ে বসেছেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা টিংকু আসাম। তিনি বলেন, “ব্রিজ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক যুগল আসেন। তাদের জন্যই এই আয়োজন। অনেক সময় আগেভাগে ফোন করে অনেকে অর্ডার দিয়ে রাখছেন যেন শেষ মুহূর্তে স্টক শেষ না হয়ে যায়।”
ফুল কিনতে আসা মাফু মারমা জানান, “প্রিয় মানুষকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুল কিনতে এসেছি। দিনটি স্পেশাল, তাই একটু বেশি দাম হলেও আক্ষেপ নেই।”
মায়ের দোয়া নার্সারির ম্যানেজার জানান, ক্রেতাদের হাতে সতেজ ও টাটকা ফুল পৌঁছে দিতে তারা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। স্থানীয় বাগান ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ফুল সংগ্রহ করা হয়েছে।
পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে ফুলের এই বর্ণিল সমারোহ রাঙ্গামাটির উৎসবের আমেজকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে উঠেছে পাহাড়ি জনপদে ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের এক অনন্য মেলবন্ধন।