রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালার মধ্য বোয়ালখালীতে কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে ২০০ পরিবার প্রত্যন্ত সিন্দুকছড়ি থেকে বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের উড়ান: পিএইচডি অর্জন করলেন ড. সজীব ত্রিপুরা স্বেচ্ছাশ্রমে কবরস্থান সংস্কারে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রামুতে ‘প্রজন্ম’ ৯৫-এর উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও ক্রেস্ট প্রদান রাজস্থলীতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন স্মৃতির আবেগে মুখর কাচালং স্কুলের এসএসসি ’৯১ ব্যাচের দ্বিতীয় পুনর্মিলনী রাঙ্গুনিয়া কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা: প্রধান আসামি গ্রেফতার বৃষ্টিতে ভিজে খাতা-কলম, অবহেলায় ধুঁকছে কুরাং পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলাইছড়িতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও সভা অনুষ্ঠিত লংগদু জোনের উদ্যোগে ফ্রী মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত সাজেকে মুমূর্ষু তরুণীকে উদ্ধার করে চিকিৎসাসেবা দিল বিজিবি পূর্ব সীমান্ত মিডিয়া নেটওয়ার্কের আত্মপ্রকাশ সভাপতি মাঈনুদ্দিন, সম্পাদক হুমায়ুন কবির টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ‘ইকরাম’ গ্রেফতার কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযান; হত্যা মামলার পলাতক, মাদক কারবারি ও মাদকসেবীসহ মোট গ্রেফতার ০৪ জন ক্ষমতার রাজনীতি, কিন্তু রুমাবাসীর জন্য নেই দায়বদ্ধতা শান্তি, সাম্য ও সম্প্রীতির হাটহাজারী গড়ার অঙ্গীকার… প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপি
Notice :

প্রত্যন্ত সিন্দুকছড়ি থেকে বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের উড়ান: পিএইচডি অর্জন করলেন ড. সজীব ত্রিপুরা

Reporter Name

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, স্টাফ রিপোর্টার।।
খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে কঠোর সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সজীব ত্রিপুরা। তাঁর এই অর্জনকে ঘিরে পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন ও গর্বের অনুভূতি।

ড. সজীব ত্রিপুরা নিজের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, তাঁর জীবনের তিনটি বড় স্বপ্ন ছিল—ইঞ্জিনিয়ার হওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া এবং সর্বশেষ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন। দীর্ঘ প্রতিকূলতা, সীমাহীন সংগ্রাম এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তিনি প্রতিটি লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হন।

প্রথম স্বপ্ন পূরণ হয় ২০১০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার মাধ্যমে। দ্বিতীয় স্বপ্ন পূরণ হয় ২০১৬ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে তৃতীয় ও শেষ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন।

নিজের শৈশব স্মৃতিচারণে তিনি তুলে ধরেন এক কঠিন বাস্তবতার চিত্র—অবকাঠামোবিহীন বিদ্যালয়, কাদামাটির পথ, বর্ষাকালে হাঁটুসমান কর্দমাক্ত রাস্তা, সীমিত খাদ্যসংস্থান এবং শিক্ষা উপকরণের অভাবের মধ্যেও তার শিক্ষা জীবন এগিয়ে যায়। তবুও শিক্ষক মংমং মারমার মতো নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের হাত ধরে তিনি ইংরেজি শিক্ষায় দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলেন।

বিদেশে পিএইচডি গবেষণার সময় তিনি ভাষাগত বাধা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, একাকীত্ব এবং তীব্র গবেষণা চাপের মধ্যেও নিয়মিত মিটিং, প্রেজেন্টেশন ও একাডেমিক লক্ষ্য পূরণ করে যেতে বাধ্য হন। একাধিকবার গবেষণাপত্র রিজেক্ট হওয়ার পরও তিনি থেমে যাননি।

ড. সজীব ত্রিপুরা তাঁর সাফল্যের পেছনে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, সহকর্মী ও বন্ধুদের অবদানকে বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি তাঁর এই অর্জন সকল সহযোগী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন।

তার এই সাফল্যকে পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে—যেখানে সীমাবদ্ধতা নয়, ইচ্ছাশক্তিই নির্ধারণ করে সাফল্যের পথ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *