
মো লোকমান হাকিম, রুমা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের রুমা উপজেলার গালেংগ্যা ইউনিয়নের কুরাং পাড়ায় অবস্থিত একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কুরাং পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষিকা দিয়েই শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে মারাত্মক ভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার নাজুক চিত্রের প্রতিফলন দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুইতন ম্রো বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিদ্যালয়টিতে দায়িত্ব পালন করছেন। সীমিত জনবল ও আর্থিক সংকটের মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে দুইজন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একজনের বেতন স্থানীয় অভিভাবকদের সহযোগিতায় প্রদান করা হয়।
তিনি আরো বলেন বলেন,শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নেই। একটি সরকারি বিদ্যালয় স্থাপন অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে এলাকার শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ অনেক উন্নত হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রেংওয়ে ম্রো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমি উন্নয়ন বোর্ড,জেলা পরিষদে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য দরখাস্ত দিয়েছি তবে এতে কোনো কার্যকর হয়নি। বর্তমানে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুইজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। এমন চলতে থাকলে অতি শীঘ্রই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে যাবে।
স্থানীয় কারবারি মাংয়া ম্রো জানান, বিদ্যালয়ের আসবাবপত্রের বেশিরভাগই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টিনের চাল ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণ ব্যাহত হয়। দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন,বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভাঙা বেঞ্চ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।
এদিকে অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করলেও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বিদ্যাপূর্ণ চাকমা বলেন, বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো নিয়ে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে ভবিষ্যতে অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।