
স্টাফ রিপোর্টার, খাগড়াছড়ি।।
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ৫নং উল্টাছড়ি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মরাটিলা এলাকায় একটি ঝর্ণা থেকে পাওয়া পাথরকে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শিবমূর্তি হিসেবে বিশ্বাস করে পূজা-অর্চনা শুরু করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দর্শনার্থী ও পূণ্যার্থীদের আগমন বেড়েছে। বর্তমানে মূর্তিটি সংরক্ষণ ও পূজার সুবিধার্থে পৃথক মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরাটিলা এলাকার শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দিরের পুরোহিত মাধুরী ত্রিপুরা (৫৩) গত ১৮ মে বিকেলে একটি ঝর্ণা থেকে পাথরটি নিয়ে আসেন। তার দাবি, এর আগে তিনি একাধিকবার স্বপ্নে নির্দেশনা পান যে পাথরটি নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রথমদিকে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরবর্তীতে পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পর তিনি স্থানীয় কার্বারী ও মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে পাথরটি মন্দিরে নিয়ে আসেন।
বর্তমানে পাথরটি শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দিরের একটি কক্ষে সংরক্ষণ করে শিবমূর্তি হিসেবে পূজা করা হচ্ছে। তবে একই কক্ষে একাধিক দেবমূর্তি থাকায় পূজা-অর্চনা ও সংরক্ষণে অসুবিধা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে পূজারী মাধুরী ত্রিপুরার ছোট ভাইয়ের জমিতে একটি ছোট আকারের পৃথক মন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।
পুরোহিত মাধুরী ত্রিপুরা বলেন, “মূর্তিটি আনার পর থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে দর্শন করছেন। কিন্তু যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পূজার জন্য আলাদা মন্দির প্রয়োজন। এজন্য সমাজের ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ও দাতাদের সহযোগিতা কামনা করছি।”
স্থানীয় কার্বারী ও শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাদশা কুমার ত্রিপুরা বলেন, “মন্দির নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করতে চাই। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে কাজ এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবক প্রশান্ত ত্রিপুরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে অবগত হওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, “স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই এবং বিষয়টি দেখি। মন্দির নির্মাণে সমাজের বিত্তবান ও ধর্মপ্রাণ মানুষদের এগিয়ে আসা উচিত।”

মন্দির নির্মাণের জন্য যৌথ অর্থায়নের সহায়তা সংশ্লিষ্টদের হাতে তুলে দেন প্রশান্ত ত্রিপুরা
তিনি আরও জানান, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। বরাদ্দের সুযোগ থাকলে সহযোগিতা করার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্দির নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে আর্থিক সহায়তা প্রদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন সমাজসেবক প্রশান্ত ত্রিপুরা এবং থাইল্যান্ডপ্রবাসী চারু বিকাশ ত্রিপুরা। তাঁদের যৌথ অর্থায়নে মন্দির ঘর নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পাশ্ববর্তী এলাকার যুব প্রতিনিধি হমেন ত্রিপুরা হৃদয় বলেন, “আমি নিজেও মূর্তিটি দেখেছি। আলাদা মন্দির নির্মাণ হলে পূজার আয়োজন আরও সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও মরাটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজর কান্তি ত্রিপুরা বলেন, “পৃথক মন্দির নির্মাণ করা গেলে পূজার পরিবেশ আরও ভালো হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহযোগিতা পাওয়া গেলে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব।”
একজন স্থানীয় ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বর্তমান মন্দিরকক্ষে জায়গা সীমিত। আলাদা মন্দির নির্মাণ করা হলে পূজা-অর্চনা ও দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধা হবে।”
এ বিষয়ে ৫নং উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কাখারাং ত্রিপুরা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি এবং মূর্তিটি দেখেছি। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার সুযোগ থাকলে তা বিবেচনা করা হবে।”
তবে শিবমূর্তি পাওয়া ও স্বপ্নসংক্রান্ত দাবিগুলোর স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, মরাটিলা এলাকায় এর আগেও একটি শিবমন্দির প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।