
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নারী এখনও পাহাড়ি প্রথাগত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করছেন। একসময় শিমুল গাছের তুলা থেকে চরকার মাধ্যমে সুতা তৈরি করা হতো, যা পরে রিনাই-রিনা, পিনন, খাদি ও থামি বুননের কাজে ব্যবহার হতো।
বর্তমানে শিমুল তুলার উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং সুতা তৈরির প্রথাগত পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ হওয়ায়, পাহাড়ি নারীরা বাজার থেকে প্রস্তুত সুতা কিনে কাপড় বুনছেন।
বনরুপা বাজারে আসা পরানি মা জানান, “ঘরসংসার, সবজি চাষের ফাঁকে কোমর তাঁতে পিনন, খাদি, শীতের মাবলার ও চাদর তৈরি করে স্থানীয় বাজারের দোকানগুলোতে সরবরাহ করি। এতে সংসারের চাহিদা মেটানো সহজ হয়।”
আরেক বিক্রেতা চিচিকো মা বলেন, “পিনন, খাদি ও থামির চাহিদা পুরো বছর থাকে। তবে পহেলা বৈশাখ, সাংগ্রাই, বিসু ও বিহু উৎসবে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তখন আমাদের লাভও বেশি হয়।”
ঢাকা থেকে আসা ক্রেতা সুমনো ত্রিপুরা জানান, “মিরপুরের দোকানের জন্য পাহাড়ি পোশাক কিনতে এসেছি। বনরুপা বাজারে সপ্তাহে বুধবার ও শনিবার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা আসেন। পোশাকের দাম ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার বেশি পর্যন্ত হয়ে থাকে। চাহিদা সবসময়ই থাকে।”
স্থানীয়দের মতে, এই পোশাক সাধারণত ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বেশি পড়া হয়। পাহাড়ি ঐতিহ্য ও নকশা দেশুবিদেশে কদর পায়। পাশের দেশ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের পাহাড়ি অঞ্চলেও এই পোশাক পৌঁছায়।