
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা (বান্দরবান)।।
বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িসহ বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসবকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে ভিন্ন নামে পরিচিত এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
চাকমা সম্প্রদায়ের কাছে এটি ‘বিজু’, মারমা ও চাক সম্প্রদায়ের কাছে ‘সাংগ্রাইং’, ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’, তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’, ম্রোদের ‘চাংক্রান’ এবং খেয়াংদের ‘সাংলান’ নামে পরিচিত। নাম ভিন্ন হলেও উৎসবের মূল চেতনা ও আনন্দ উদযাপনে রয়েছে অভিন্নতা।
প্রতি বছরের মতো এবারও পুরনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করে নিতে নানা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক আয়োজন শুরু হয়েছে। গ্রামাঞ্চলজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
আগামী ১২ এপ্রিল সকালে বিভিন্ন নদী ও খালে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে জলবুদ্ধ ও গঙ্গাদেবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর টানা তিন দিন ধরে চলবে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম।
তবে বান্দরবানে এ বছরের সাংগ্রাইং উৎসব উদযাপনকে কেন্দ্র করে পুরনো ও নতুন কমিটির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে উৎসব উদযাপন হবে কিনা, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সকল মতবিরোধ কাটিয়ে উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।