
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় পরিবেশ ও স্থানীয় জনজীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এসব ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাইতং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটা, কাঠ পোড়ানো এবং ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সূত্র অনুযায়ী, লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৩০টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে গত এক বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা জরিমানা, ৮৫টি মামলা এবং ৭টি ইটভাটা উচ্ছেদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও অবৈধ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের যৌথ অভিযান পরিচালনার সময় একাধিকবার বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এক ঘটনায় অভিযানিক দলের যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় অভিযান স্থগিত করা হয় বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে স্থানীয় কয়েকটি ওয়ার্ডে দেখা গেছে, একাধিক ইটভাটা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির কাছাকাছি স্থাপিত হয়েছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাওয়া, ফসল উৎপাদন হ্রাস এবং জীববৈচিত্র্যরে ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এছাড়া ভারী যানবাহনের চলাচলের কারণে স্থানীয় সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে আরও কঠোর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। প্রয়োজনে নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান চলছে। পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান।