সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
থানচির একাধিক স্থানে ভূমিধস, সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে সেনাবাহিনী মাটিরাঙ্গায় বন্যাদুর্গত ২৫০ পরিবারের মাঝে সেনা জোনের ত্রাণ বিতরণ বিলাইছড়িতে বন্যা দুর্গত ৫০ পরিবারকে সেনা জোনের ত্রাণ সহায়তা বিলাইছড়িতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা কাপ্তাইয়ে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ পানছড়িতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত, পরিকল্পিত পরিবার গঠনের আহ্বান পানছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কের একাংশ ধসে, পরিদর্শনে ইউএনও ইসলামপুরে বন্যা ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে মাইজভান্ডারি গাউসিয়া হক কমিটির ত্রাণ বিতরণ টেকনাফে ১০ হাজার ইয়াবাসহ সিএনজি চালক আটক বান্দরবানে বন্যাদুর্গতদের পাশে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা দুর্গম আলীকদমে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সেনাবাহিনী, বিতরণ ত্রাণসামগ্রী লামায় পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে এমপি সাচিংপ্রু জেরি বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বিচ্ছিন্ন দুই সড়কের যোগাযোগ রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে নৌকা ডুবে তরুণ নিখোঁজ, চলছে উদ্ধার অভিযান নাইক্ষ্যংছড়িতে বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত স্টিল ব্রিজ, জরুরি মেরামতে ১১ বিজিবি রামগড়ে পাহাড়ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১৫ পরিবারে ত্রাণ বিতরণ

খাগড়াছড়িতে ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান পাহাড়ের মানুষ

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, স্টাফ রিপোর্টার।।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি–২৯৮ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়া আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া-কে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সর্বস্তরের মানুষ। র্নিবাচনী ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৫১ হাজার ৪০ ভোট পেয়ে জয়ী হওয়ার পর জেলা জুড়ে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশার আবহ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সামাজিক–রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে গ্রহণযোগ্যতা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতার কারণে ওয়াদুদ ভূঁইয়া মন্ত্রী হলে পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি-সম্প্রীতি ও উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।

স্বেচ্ছাব্রতী উজ্জীবক ফোরামের সাবেক সভাপতি ও সামাজিক সংগঠক রানা হামিদ বলেন, “দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় ওয়াদুদ ভূঁইয়া সবসময় মানুষের বিপদের দিনে পাশে ছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমান গুরুত্ব দেওয়া—সব মিলিয়ে পাহাড়ের মানুষের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস তৈরিতে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাকে পূর্ণমন্ত্রী করা হলে পাহাড় উপকৃত হবে।”তিনি আরও বলেন, “রাঙামাটি ও বান্দরবান একাধিকবার মন্ত্রী পেয়েছে। আয়তন, জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় খাগড়াছড়িবাসীরও একজন পূর্ণমন্ত্রী পাওয়ার ন্যায্য প্রত্যাশা রয়েছে।”

খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফ মোহাম্মদ জাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের সব সম্প্রদায়ের কাছে জনপ্রিয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চাই। তিন পার্বত্য জেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল—এখানে একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর প্রয়োজন অপরিসীম।”

জেলা যুবদলের সভাপতি মাহবুল আলম সবুজ বলেন, “এত বড় ব্যবধানে জয়লাভ মানেই জনগণের প্রত্যাশাও বড়। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতায় উন্নয়নের জন্য বিশেষ নজর প্রয়োজন। তিনি মন্ত্রী হলে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এলাকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।”

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার বলেন, “পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছেন। দলীয়ভাবে আমরা আশা করছি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”

এদিকে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ, ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদ, মারমা ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে মন্ত্রী করার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ওয়াদুদ ভূঁইয়া ২০০১ সালে খাগড়াছড়ি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে অনেকের প্রত্যাশা, তিনি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সমন্বয় আরও কার্যকর হবে।

বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর খাগড়াছড়িতে যে জনমত তৈরি হয়েছে, তা মূলত উন্নয়ন, শান্তি ও প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশার প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই জনআকাঙ্ক্ষাকে কীভাবে মূল্যায়ন করে এবং পার্বত্য জেলার জন্য কী সিদ্ধান্ত নেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *