
অংগ্য মারমা, মানিকছড়ি।।
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক হেভিলাইসেন্স বিহীন পরিবহন শ্রমিক মো. বাবুল হোসেনকে জোরজবরদস্তি করে হুমকি ধামকির মাধ্যমে এক্সকেভটর চালাতে বাধ্য করা ও প্রশাসনের দায়িত্বহীন আচরণের অভিযোগ এনে নিহত বাবুল হোসেনের পরিবারের ন্যায্য বিচার, সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর অপসারণের দাবিতে মানিকছড়িতে মানববন্ধন শেষে স্মারকলিপি প্রদান করা করা হয়েছে। গতকাল সকালে মানিকছড়ি উপজেলা পরিষদ চত্বরে যুব সমাজ ও এলাকাবাসীর ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে তাদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
এসময় ব্যবসায়ী মাসুদ উজ জামান, হাসান মাহমুদ ও শাহজালাল পারভেজসহ আরো অনেকেই বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, বাবুল মিয়ার মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং এর পেছনে প্রশাসনের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতা রয়েছে। তারা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারকে যথোপযুক্ত সম্মান ও সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোর দাবি জানান’।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, অভিযুক্ত ইউএনও ও এসি (ল্যান্ড)-এর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের অপসারণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর না ঘটে।
বক্তারা সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিহত বাবুল মিয়ার পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণের জন্য লিখিত আশ্বাস দেওয়ার জন্য আগামী ৭২ ঘন্টা সময় দেন। এরপরও প্রশাসন কর্তৃক কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ দেখতে না পেলে মানিকছড়ির জনগণকে নিয়ে আরো কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন।
কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিটি মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়। স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিবৃতিতে জানান , গত ১২ এপ্রিল আনুমানিক সকাল ১০ টায় দিকে মানিকছড়ি উপজেলার ২ নং বাটনাতলি ইউনিয়নের থলিপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত একটি ‘পে-লোডার’ জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত পে-লোডারটি থানায় আনার সময় পথিমধ্যে বাবুল হোসেন এক আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হন। দুর্ঘটনার সাথে সাথেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুততম সময়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।