March 6, 2026, 9:25 am
শিরোনাম :
মহালছড়িতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপকারভোগীদের টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ বান্দরবানে অসহায়দের মাঝে সেনাবাহিনীর ইফতার সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা খাগড়াছড়িতে নারী দিবস ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সনাকের প্রস্তুতি সভা খাগড়াছড়িতে গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও যন্ত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে চারদিনব্যাপী মিউজিক ক্যাম্প উদ্বোধন সাজেকে শতাধিক পরিবারের মাঝে বিজিবির ইফতার সামগ্রী বিতরণ খাগড়াছড়িতে প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সুবিমল চাকমাকে নিয়ে আলোচনা উখিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ ৫ রোহিঙ্গা আটক পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতা অপরিহার্য: পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান “দরিদ্র মানুষের অধিকারকে কেউ যেন সহমর্মিতা না ভাবেন” — সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী খাগড়াছড়িতে খুচরা সার বিক্রেতাদের বহাল রাখার দাবিতে স্মারকলিপি গুইমারায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর আর্থিক সহায়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পানছড়িতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় আলোচনা সভা বরকলে ১২ বিজিবির উদ্যোগে রমজানে এতিম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সহায়তা বিলাইছড়িতে বাজারে মোবাইল কোর্ট ও জরিমানা পার্বত্য মন্ত্রীর সঙ্গে তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার সৌজন্য সাক্ষাৎ
Notice :

বান্দরবানের দুর্গম ভোটকেন্দ্রে সরঞ্জাম বিতরণ, ভোটার উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। তবে ভোটকেন্দ্র থেকে ৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৪৫৮টি দুর্গম গ্রামের ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৮৬টি। এর মধ্যে হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র ১১টি এবং দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কেন্দ্র রয়েছে ১৫৮টি। এসব কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ১০১টি ব্যালট বাক্স পাঠানো হয়েছে।

জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪৪২ জন। এর মধ্যে ব্যালট ও গণভোট পেপারে ভোট দেবেন ৩ লাখ ১০ হাজার ৭২৯ জন এবং প্রবাসী ও সরকারি কর্মকর্তাসহ ৪ হাজার ৬৯৩ জন ভোট দেবেন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে।

নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১৮৬টি ভোটকেন্দ্রে ১৮৬ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১৮৭ জন পোস্টাল প্রিজাইডিং অফিসার, ৭২৯ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৪৫৮ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গাড়িযোগে এসব নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ব্যালট বাক্স, বিভিন্ন ফর্ম, অমোচনীয় কালি, স্ট্যাম্প প্যাড, সিলসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার ৩৪টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত ২৫টি ইউনিয়নে ভোটকেন্দ্র থেকে ৫ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৪৫৮টি প্রত্যন্ত গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে কোনো যানবাহনের ব্যবস্থা নেই; পায়ে হেঁটে দুর্গম পাহাড়ি পথই একমাত্র ভরসা।

কিছু গ্রাম থেকে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে সময় লাগে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা। ফলে অনেক ভোটারকে ভোটের আগের দিনই কেন্দ্রে এসে অবস্থান করতে হয়। দুর্গমতার কারণে এসব ভোটার ভোট দিতে আসবেন কি না—তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

সবচেয়ে দুর্গম এলাকার মধ্যে রয়েছে থানচি উপজেলার রেমাক্রী ইউনিয়নের বড় মদক কেন্দ্র। এ কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে ১৫টি গ্রাম অবস্থিত। এছাড়া তিন্দু ইউনিয়নের ঝিনাকেন্দ্র এলাকায় ৭ কিলোমিটার দূরে ১৪টি গ্রাম, বলিবাজার কেন্দ্রে ১৮ কিলোমিটার দূরে ১২টি গ্রাম, রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের রুংকিয়া পাড়া কেন্দ্রে ৮ কিলোমিটার দূরে ৭টি গ্রাম এবং পাইন্দু ইউনিয়নের আরথা কেন্দ্রে ১২ কিলোমিটার দূরে ৪টি গ্রাম রয়েছে।

রুমা সদর এলাকার পলিকা ও সাইকট কেন্দ্রে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ৩০টি গ্রাম, রোয়াংছড়ি সদরে ৯ কিলোমিটার দূরে ৫টি গ্রাম, লামা উপজেলার লেমুপালং কেন্দ্রে ২০ কিলোমিটার দূরে ২০টি গ্রাম, গজলিয়া ইউনিয়নের জিন্দাবর কেন্দ্রে ২০ কিলোমিটার দূরে ১০টি গ্রাম এবং রুপসী ইউনিয়নের বরকনা ঝিরি কেন্দ্রে ২৫ কিলোমিটার দূরে ২৫টি গ্রাম অবস্থান করছে।

আলীকদম উপজেলায় কুরুকপাতা ইউনিয়নের বিদ্যামণি কেন্দ্রে ৫ থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে ২৫টি গ্রাম এবং ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে আরও ১৫টি গ্রাম রয়েছে। সদর ইউনিয়নের রেংপু কেন্দ্রে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ১২টি গ্রাম অবস্থিত। কোথাও কোথাও ৪ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে শতাধিক গ্রাম রয়েছে, যেখানে পৌঁছাতে একমাত্র উপায় পায়ে হাঁটা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা জানান, দুর্গম এলাকার ভোটারদের অনেককে ভোট দিতে একদিন আগেই কেন্দ্রে আসতে হয়। প্রার্থীদের পক্ষ থেকে আগাম থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হলে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শামিম আরা রিনি বলেন, “সাতটি উপজেলায় নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে এবং আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন। দুর্গম এলাকার ভোটাররা কীভাবে কেন্দ্রে আসবেন—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট টিম কাজ করছে।”

তিনি আরও জানান, “আগে থেকেই যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভোটারদের জন্য আরও সহজ হতো। ভবিষ্যতে এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।”