
পার্বত্য জেলা বান্দরবান-এর লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়ন-এর খেদারবান পাড়া ৫নং ওয়ার্ড এলাকায় বন্য হাতির তাণ্ডবে কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খেদারবান পাড়ার কৃষক আনোয়ার হোসেনের ধান ও সবজি ক্ষেতে বন্য হাতির একটি দল ঢুকে পড়ে। এ সময় ধানক্ষেত ও সবজি ক্ষেত পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে যায়। এতে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে ফলানো ফসল নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলো চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে লামা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে বন্য হাতির তাণ্ডব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে ফসলি জমিতে হাতির দল ঢুকে ধান রোপণের দুই-এক মাসের মধ্যেই বিঘার পর বিঘা জমির ধান খেয়ে ও মাড়িয়ে নষ্ট করছে। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন ছাড়াও নুরুচ্ছাফা, সাহাব উদ্দিন, মোহাম্মদ রাকিব, জুবাইর, মিজবাহ উদ্দীন, জসিম উদ্দিন ও এখেলাসসহ আরও অনেকে রয়েছেন। তারা জানান, ফসল নষ্ট হওয়ায় পরিবার চালানো নিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
লামার ডলুছড়ি রেঞ্জ অফিসার এস. এম. হাবিবুল্লাহ জানান, প্রতি বছরই বন্য হাতির আক্রমণে এ অঞ্চলে ফসলহানি ঘটে। শুধু ফসল নয়, অনেক সময় ক্ষুধার্ত হাতির দল লোকালয়ে ঢুকে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে, এতে জানমালের ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণহানির ঝুঁকিও থাকে।
বন বিভাগের তথ্যমতে, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী হাতির আক্রমণে ফসল ও সম্পদের ক্ষতির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় কৃষকরা হাতি ও মানুষের এই দ্বন্দ্ব নিরসনে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একদিকে পরিকল্পিত বনায়ন, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা হলে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।