
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
বান্দরবান সদর উপজেলার হাফেজঘোনা এলাকার রুমা স্টেশনের ওপর বননিবাস হিল রিসোর্টসংলগ্ন এলাকায় অসুস্থ স্বামী ও জন্মগত প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন ধনশৌ মারমা। জরাজীর্ণ ঘর, বিদ্যুৎ ও নিরাপদ পানির অভাব, অনিশ্চিত খাবারের সংস্থান এবং চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে না পারায় পরিবারটির জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ধনশৌ মারমার স্বামী লাচিং মারমা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না তিনি। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। তাঁদের ছেলে রুল হাই মারমা জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। অন্যদিকে, বয়সের ভারে ধনশৌ মারমাও আগের মতো কাজ করতে পারছেন না। ফলে পরিবারের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবারটির বসবাসের ঘরটি জরাজীর্ণ। বৃষ্টি ও বাতাসে ঘরটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে পানি ঢোকে এবং ঘর ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘরে বিদ্যুৎ ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নেই। স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোর উপযোগী বিছানারও অভাব রয়েছে। পরিবারের একটি ছোট দোকান থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত পণ্য নেই। আয়ও সীমিত। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।
নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে লাচিং মারমা বলেন, “এই ঘর ছাড়া আমাদের থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারি না। ওষুধ কেনা ও চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। অনেক সময় ঘরে রান্না করার মতো চাল-ডালও থাকে না। আমার ছেলে জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সহায়তা পাইনি। সরকার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের কাছে সহযোগিতা চাই।”
ধনশৌ মারমা বলেন, “আমরা খুব অসহায় অবস্থায় আছি। থাকার মতো ভালো ঘর নেই, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থাও নেই। আমার স্বামীর চিকিৎসা করানোর টাকা নেই, ছেলেও প্রতিবন্ধী। এই বয়সে এসে আর কিছু করার সামর্থ্য নেই। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন পাশে দাঁড়ালে হয়তো একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারতাম।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পরিবারটির আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। কখনো কখনো খাবার জোগাড় করতেও সমস্যায় পড়তে হয় তাঁদের। অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা, প্রতিবন্ধী সন্তানের দেখভাল এবং পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে ধনশৌ মারমাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে পরিবারটির দুর্ভোগ কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে নিরাপদ বাসস্থান, চিকিৎসা, খাদ্যসহায়তা এবং প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রযোজ্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা জরুরি।
ধনশৌ মারমার পরিবারের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেবে। একটি নিরাপদ ঘর, স্বামীর চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের ন্যূনতম খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তাঁদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হতে পারে।