মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহালছড়িতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন যুব ফোরামের, মানোন্নয়নে গঠনমূলক সুপারিশ বেতন-ভাতার দাবিতে বান্দরবান সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা, সেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি মাটিরাঙ্গায় পাহাড় কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবীনবরণ ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা পানছড়িতে ফ্যামিলি কার্ডের খানা জরিপ শুরু, তথ্য সংগ্রহে দেশব্যাপী কার্যক্রম বাঘাইছড়িতে মাদকবিরোধী শোভাযাত্রা, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে সভা ফেসবুকে ১৭ দিনের পরিচয়, কক্সবাজারে রাতযাপন, কুমিল্লায় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার লংগদুতে সেনাবাহিনীর কারিগরি প্রশিক্ষণ, সনদ পেলেন ৪৮ জন গুইমারায় জাতীয় কন্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ বিলাইছড়িতে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বার্ষিক মাহফিল অনুষ্ঠিত দীঘিনালায় দুর্গাপূজা ঘিরে বিজিবির নিরাপত্তা সভা, ৯ মণ্ডপে অনুদান মাটিরাঙ্গায় আদালতে মামলা চলমান, ফের গাছ কাটার অভিযোগ রাঙামাটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন পরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগ নানিয়ারচরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত  দীঘিনালা–রাঙামাটি সড়কে চালু যাত্রীবাহী পিকআপ সার্ভিস, ভাড়া ৩০০ টাকা

শিক্ষা নয়, চলছে অবহেলা: মাংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ

Reporter Name

মো. লোকমান হাকিম, রুমা।।
বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলার গালেংগ্যা ইউনিয়নের মাংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি, অনিয়মিত পাঠদান ও নানা অবকাঠামোগত সংকটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, এসব কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তারা হলেন—এংলাই ম্রো (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক), তাপস চাকমা (সহকারী শিক্ষক), রিয়াজুল ইসলাম (সহকারী শিক্ষক-বদলি) এবং নুহ্লাপ্রু মারমা (পি.টি.আই)।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং পাঠদান কার্যক্রমও সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না। স্থানীয়দের ভাষ্য, কোনো কোনো শিক্ষক কয়েক মাসে মাত্র এক বা দুইবার বিদ্যালয়ে আসেন।

এক অভিভাবক বলেন, “স্কুলের অবস্থা খুবই খারাপ। ঠিকমতো ক্লাস হয় না। শিক্ষকরা মাসের পর মাস স্কুলে আসেন না। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”

আরেক অভিভাবক পাংপাও ম্রো অভিযোগ করে বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এংলাই ম্রো পাঁচ মাসে একবার এসেছেন। এসেও ক্লাস না করেই চলে গেছেন। অন্য শিক্ষকরাও নিয়মিত আসেন না।”

গত সোমবার (১১ মে) সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিবেদক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ তিনজন শিক্ষককে অনুপস্থিত দেখতে পান। কেবল সহকারী শিক্ষক তাপস চাকমাকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত পাওয়া যায়। এছাড়া জানা যায়, উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ে ৯ মে থেকে প্রথম সাময়িক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হলেও মাংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরু হয় দুই দিন পর।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক তাপস চাকমা বলেন, “যথাসময়ে প্রশ্নপত্র হাতে না পাওয়ার কারণে পরীক্ষা শুরু করতে পারিনি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমাকে পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। তাই আমি একাই পরীক্ষা নিচ্ছি।”

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়েও তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ। সুপেয় পানির ব্যবস্থা, টয়লেট, অফিস কক্ষ, নোটিশ বোর্ড, আলমারি ও পর্যাপ্ত আসবাবপত্রের অভাব রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এংলাই ম্রোর বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অভিযোগ জানানো হলেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।

রুমা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ চিরাণ বলেন, “একজন অভিভাবক আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দুর্গম এলাকা হওয়ায় প্রকৌশলী ও ঠিকাদারেরা কাজ করতে আগ্রহ দেখাননি। ভবিষ্যতে টিনশেড ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *