
মো: সাইফুল ইসলাম, মাটিরাঙ্গা।।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তির বাগান থেকে আবারও গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ বাবুল আক্তার এ ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রতিকার চেয়েছেন।
অভিযোগকারী বাবুল আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার ১৮৫ নম্বর অযোধ্যা মৌজার ৩৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের আওতাধীন ৬০ শতক জমি তিনি ২০১১ সালে ক্রয় করেন। পরে ওই জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে বাগান গড়ে তোলেন। গত ৪ ও ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁর বাগান থেকে গাছ কেটে নেওয়া হয় এবং ৬ অক্টোবর রাতে গাড়িতে করে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
বাবুল আক্তার জানান, এর আগে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর একই জমির বাগান থেকে গাছ কাটা, চুরি ও চারা নষ্ট করার অভিযোগে আব্দুর রহিম, নুরু মিয়া, আবুল কাশেম, আবুল খায়ের, আবুল হোসেন, মনির মিয়া ওরফে মনু মিয়া, আয়তাল হকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তিনি আদালতে মামলা করেন। মামলাটি সি.আর. ৬৩৫/২০২৫ নম্বরে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে খাগড়াছড়ির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৪২৭, ৩৭৯, ৩৪ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
অভিযোগকারীর দাবি, আদালতের নির্দেশে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে আদালতকে প্রতিবেদন দিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যেই অভিযুক্তদের কয়েকজন আবারও গাছ কাটার ঘটনায় জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাবুল আক্তার আরও জানান, সম্প্রতি ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা ও কয়েকটি স্থানে কেটে রাখা গাছ দেখতে পান। তাঁর দাবি, আগের ঘটনায় চাপালিশ, জাম, কনকসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা এবং অসংখ্য চারা নষ্ট করা হয়েছিল। দুই ঘটনায় তাঁর মোট ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তদন্তের মাধ্যমে প্রতিকার দাবি করেন।
অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বাবুল আক্তারের দাবি, দীর্ঘদিনের সঞ্চয় দিয়ে জমিটি কিনে তিনি সেখানে বাগান গড়ে তোলেন। জমিটির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে বলে তিনি জানান। তাঁর অভিযোগ, অতীতে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জমিটি অন্যের নামে নিবন্ধন করা হয়ে থাকতে পারে—যা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বক্তব্য, জমির দলিলপত্র এবং সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে। আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা ও জমির মালিকানা নির্ধারণের বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে।