April 2, 2026, 4:39 pm
শিরোনাম :
ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে হবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গামাটিতে ২৫ টি হারিয়ে যাওয়া মোবাইল হস্তান্তর কাপ্তাইয়ে ৩৪ বছর শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন প্রধান শিক্ষক মো: ইউসুফ মিয়া রাঙামাটিতে বন্য হাতির আক্রমণে নিহত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে টাকা প্রদান মুনাফার লোভে তেল বিক্রি, ২০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন পরিবেশক ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে প্রধান শিক্ষকের রাজকীয় বিদায় ; মেহেবুল কালাম আজাদ বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে অকটেন আটক হজযাত্রীদের কল্যাণে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করেছে- কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক রিজিয়ন কমান্ডারের সভাপতিত্বে খাগড়াছড়িতে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন লামায় সূর্যমুখীর সমারোহ, তামাকের বিকল্পে আশার আলো দেখছেন কৃষকরা কক্সবাজারে ফিটনেসবিহীন যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বিলাইছড়িতে মোটরসাইকেল মালিক সমিতির সিরিয়াল ও আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত নাইক্ষ্যংছড়িতে বিনামূল্যে চক্ষু ও ডায়াবেটিস চিকিৎসা শিবির, ৭০০ মানুষের সেবা গ্রহণ দীঘিনালায় দুর্যোগে আটকে পড়াদের উদ্ধার করল সেনাবাহিনী রাঙ্গুনিয়ায় বৌদ্ধ বিহারে চুরি, ১২টি পিতলের বুদ্ধমূর্তি উধাও খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের
Notice :

লামায় সূর্যমুখীর সমারোহ, তামাকের বিকল্পে আশার আলো দেখছেন কৃষকরা

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ। দিগন্তজোড়া সবুজের মাঝে হলুদ রঙের এ ফুলের মেলা যেন প্রকৃতিতে এনেছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য। সোমবার (৩১ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।

সূর্যমুখী শুধু দৃষ্টিনন্দন ফুলই নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলজাতীয় ফসল। এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং বিভিন্ন খাদ্যে ব্যবহারযোগ্য। বিশ্বব্যাপী সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে লামায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে এ ফসলের প্রতি।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে লামায় প্রায় ৫.৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। তামাক চাষ থেকে সরে এসে অনেক কৃষক এবার বিকল্প হিসেবে সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকেছেন। এ লক্ষ্যে কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অভিজিৎ বড়ুয়া জানান, ৪০ জন কৃষককে ১ বিঘা করে জমিতে চাষের জন্য বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ফসল সংগ্রহের উপযোগী হয়েছে এবং ফলন আশাব্যঞ্জক।

কৃষি বিভাগ আরও জানায়, ভাদ্র-আশ্বিন মাস সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযুক্ত সময়। সঠিকভাবে জমি প্রস্তুত, নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বপন এবং সময়মতো সার প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। সাধারণত বপনের ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব। বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ১০ মণ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

লামা পৌরসভার ছাগলখাইয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশজুড়ে বিস্তৃত সূর্যমুখীর বাগান। স্থানীয় কৃষক মংক্যচিং মার্মা জানান, প্রথমবার ৪০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আশা করছেন, ১৫ থেকে ২০ মণ ফলন পেয়ে সব খরচ বাদ দিয়ে লক্ষাধিক টাকা লাভ করতে পারবেন।

একইভাবে গজালিয়া ইউনিয়নের কৃষক সজারাম ত্রিপুরাও কৃষি বিভাগের পরামর্শে সূর্যমুখী চাষ করে সন্তোষজনক ফলন পেয়েছেন বলে জানান। ফাইতং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও এ ফসলের ভালো ফলনের খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, সূর্যমুখীর তেল স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। কৃষকদের মধ্যে এ ফসল জনপ্রিয় করতে সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হওয়ায় আগামীতে আরও কৃষক এ চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।