April 17, 2026, 3:09 pm
শিরোনাম :
বরকলের সীমান্তবর্তী বড় হরিনায় ১২ বিজিবির জনসচেতনতামূলক সভা রাঙ্গামাটিতে পানিখেলায় মারমা তরুণ-তরুণীদের উচ্ছাস কাপ্তাইয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত রাঙামাটিতে যুবনেতা ধর্মশিং চাকমা হত্যা: ইউপিডিএফ’র নিন্দা ও প্রতিবাদ রাঙামাটিতে যুবনেতা ধর্মশিং চাকমা গুলিতে নিহত, নিন্দা ও প্রতিবাদ ডিওয়াইএফের নাইল্যাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক তিন ঘটনায় তিন নারী গ্রেফতার সীমান্তে ৩৪ বিজিবির মানবিক উদ্যোগ: ঘুমধুমে চিকিৎসা সেবা, অনুদান ও উপহার বিতরণ দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর সহায়তা কার্যক্রম: বদলাচ্ছে অসহায়দের জীবন লামায় মাতামুহুরী নদীতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু রাজস্থলী তাইতংপাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নই সরকারের অগ্রাধিকার: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল পাহাড়ের দুর্গম জনপদ সিন্দুকছড়ি সেনাবাহিনী জোনের মানবিক স্বাস্থ্যসেবা; বিনামূল্যে চিকিৎসা পেল দেড় সহস্রাধিক মানুষ মাটিরাঙ্গার আমতলীতে বর্ণিল আয়োজনে বুইসুক উৎসব পালিত মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স…. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান মারমা সম্প্রদায়ের রিঃ লং পোয়েঃ আকাজা, পাইংজারা ও মঙংছুং প্রদর্শনী দেখলেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার
Notice :

খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, স্টাফ রিপোর্টার||

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, স্টাফ রিপোর্টার||
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস—বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক অনন্য গৌরবোজ্জ্বল দিন। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত বিজয়। দিবসটি উপলক্ষে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং একত্রিশবার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। পরে চেঙ্গী স্কয়ার সংলগ্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের পক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমদা রঞ্জন ত্রিপুরা জেলা প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানান।

দিবসটি উপলক্ষে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়।
খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সন্ধ্যায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় জেলার সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, শিশু পরিবার ও পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রসমূহে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।

খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন একাদশ বনাম পার্বত্য জেলা পরিষদ একাদশের মধ্যে একটি প্রীতিম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তমঞ্চ ও শাপলা চত্বরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

বিজয় দিবস উপলক্ষে পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত জিরো মাইল সংলগ্ন হর্টিকালচার পার্ক, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, রিছাং ঝর্ণা ও মায়াবিনী লেক সাধারণ দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়। একইভাবে জেলা প্রশাসনের আওতাধীন আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, রিছাং ঝর্ণা ও মায়াবিনী লেকেও বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বিজয় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক এম এন আবসার, উপদেষ্টা জাকিয়া জিন্নাত বিথী, সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, ক্ষেত্র মোহন রোয়াজাসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও চেঙ্গী স্কয়ার থেকে পৃথক বিজয় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।