বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খাগড়াছড়িতে “শিক্ষা সুরক্ষা” প্রকল্পের অবহিতকরণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রাঙামাটিতে যুবদের সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ কর্মশালার উদ্বোধন সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রচারে গুইমারায় প্রেস ব্রিফিং রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সন্দেহভাজন দুই যুবক আটক ওমানে গাড়ির এসি বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ ভাইয়ের মৃত্যু রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ৫ দোকান পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ৫ লাখ টাকা রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, কিলন গুঁড়িয়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে বিশেষ অভিযানে একনলা বন্দুক উদ্ধার নাইক্ষ্যংছড়িতে ‘পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত ফ্যামেলি কার্ড ও কৃষি ঋণের সুবিধা পর্যায়ক্রমে পাবে বান্দরবানবাসী: জেলা প্রশাসক খাগড়াছড়িতে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষি উন্নয়নে সরকারের সহায়ক ভূমিকা পালন করছে… বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো: সানিউল ফেরদৌস খাগড়াছড়িতে “রাইটস অ্যান্ড সোশ্যাল সেফটি নেট সার্ভিসেস” বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত শিক্ষা নয়, চলছে অবহেলা: মাংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ বিকলপ্রায় একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স; জরুরি সেবা পাওয়া যেন দুঃস্বপ্ন রাজস্থলীবাসীর বান্দরবানে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় ২৭৭ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান
Notice :

রাঙ্গামাটিতে পানিখেলায় মারমা তরুণ-তরুণীদের উচ্ছাস

Reporter Name

॥দেবদত্ত মুৎসুদ্দী ,রাঙ্গামাটি॥

রাঙ্গামাটিতে বাংলা নববর্ষ, বৈসাবি, বিজু, বিহু,বৈসু, সাংগ্রাই,পাতা  শেষ হতে না হতেই পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি সাংগ্রাই উৎসব বা রিলংপোয়ে। যা অন্য ভাষা-ভাষির লোকের কাছে মৈত্রী বর্ষণ, জলকেলি উৎসব বা ওয়াটার ফেস্টিভাল বলে পরিচিত। পানিকে পবিত্রতার প্রতীক মেনে রঙ-বেরঙের ঐতিহ্যবাহি পোশাক পরিধান করে মারমা তরুণ-তরুণীরা জল ছিটান একে অপরের গাঁয়ে। উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ে চলছে এখন পানির উৎসব বা জলকেলি উৎসব।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাঙ্গামাটি চিং হ্লা মং চৌধুরী মারি স্টেডিয়ামে  মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) উদ্যোগে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহি সামাজিক উৎসব এই ‘জলকেলি বা জল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। গেস্ট অব অনার ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) এর সভাপতি  থাইচিংমং মারমা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, তিন পার্বত্য জেলা সুষম উন্নয়ন করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৩টি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি রয়েছে, এগুলোর মধ্যে অনেক কিছু হারিয়ে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও কালচার রক্ষা করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেয়া হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে পার্বত্য চট্টগ্রামও এগিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, মৈত্রীময় পানি উৎসব অত্যন্ত আনন্দের। পুরনো বছরের সকল দুঃখ-কষ্ট ভুলে জল উৎসবে মেতেছে তরুণ-তরুণীরা। এ আনন্দ উৎসব সকলের মধ্যে ভালোবাসার সম্প্রীতি সৃষ্টি করে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন বলেন- ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে আমরা সকলে বাংলাদেশী হিসেবে যেকোনো সংস্কৃতিকে ধারণ করতে পারি এবং লালন করতে পারি। বর্তমান সরকার ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এবং করে যাবে। আমরা সকলে গড়বো সমৃদ্ধি ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ।

সভায় বক্তারা বলেন, অনুষ্ঠানে অনেকই মারমা জামা পরিধান করেছেন। দেখতে খুবই ভালো লাগছে। শুধু মারমা জামা পরিধান করলে হবে,তাকে অন্তরে ধারণ করে রাখতে হবে এবং এর অনুভূতিটা ধারণ করতে হবে।

সভা শেষে অতিথিরা ‘জলকেলি’ উদ্ধোধন করেন। এর পর পরেই এক পাশে তরুণ অন্য পাশে তরুণীরা অবস্থান নিয়ে একে অপরকে জল ছিটাতে শুরু করে। তাদের ধারণা,এতে পুরনো বছরের সমস্ত জরাজীর্ণ ধুয়ে মুছে যায়। একটি  সুন্দর আগামী দিনের প্রত্যাশায় এ জল ছিটানো হয়। জল খেলায় কোন বিবাহিত নারী-পুরুষ অংশ নিতে পারেন না। এ খেলায় শুধুমাত্র অবিবাহিত তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করতে পারেন। জল খেলার পাশাপাশি চলে তরুণ-তরুণীদের একে অপরকে পছন্দ করার বিষয়টিও। পছন্দ হলে সে তরুণ-তরুণীরা আগামী দিনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার একটি রীতিও প্রচলিত আছে এ উৎসবে। জল খেলা শেষে স্থানীয় ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠির শিল্পীরা তাদের কৃষ্টি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে বিভিন্ন সংগীত পরিবেশন করেন। ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জল উৎসব পালনে সকল সম্প্রদায়ের হাজার,হাজার দর্শকের সরগম ছিল দেখার মত। মারমা সম্প্রদায়ের এ জলকেলি উৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে পাহাড়ের বৈসাবী উৎসব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *