
মো.জয়নাল আবেদীন, আলীকদম
পার্বত্য চট্টগ্রামের তংচংগ্যা সম্প্রদায়ের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও প্রাণের স্পন্দনকে ধারণ করে বান্দরবানের আলীকদমে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসব ‘বিষু মেলা’।
১৪ই এপ্রিল (১লা বৈশাখ) উপজেলার পানবাজারস্থ ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় তংচংগ্যা সম্প্রদায়ের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা এক সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি। এছাড়াও অনুষ্ঠানে তংচংগ্যা সম্প্রদায়ের হেডম্যান, কারবারীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।
ঐতিহ্য রক্ষা ও মতবিনিময় উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল তংচংগ্যাদের হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ‘ঘিলা খেলা’। জোন কমান্ডার অত্যন্ত আগ্রহের সাথে এই লোকজ খেলা উপভোগ করেন এবং উপস্থিত জনগণের সাথে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সাথে আন্তরিক মতবিনিময় করেন এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণাঢ্য জীবনযাত্রার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সম্পদ। সকল সম্প্রদায়ের ঐক্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যই পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।”
আলীকদম সেনা জোনের পক্ষ থেকে এই উৎসব উপলক্ষে পুরো এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক উপস্থিতি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করার ফলে সাধারণ মানুষ কোনো প্রকার আতঙ্ক ছাড়াই অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষের অনুষ্ঠানাদি উদযাপন করতে পেরেছেন। স্থানীয় পাহাড়ী-বাঙালী উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসবে যোগ দিতে পারায় এলাকায় এক অভূতপূর্ব আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, আলীকদম সেনা জোনের পক্ষ থেকে উৎসব আয়োজনে বিশেষ আর্থিক সহায়তা এবং মিষ্টি বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর এই আন্তরিক সহযোগিতা স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং জনসাধারণের সাথে সেনাবাহিনীর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
আলীকদম সেনা জোনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও সময়োপযোগী নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় উৎসবটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর এই অভিভাবকসুলভ ভূমিকার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, সেনাবাহিনীর সক্রিয় সহযোগিতার ফলেই দুর্গম এই জনপদে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।